ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

ময়মনসিংহে মায়ের আহাজারী ।একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের দুর্যোগে গোলাপজানের তিন পুত্র মারা যায় কলেরার মড়কে । এরপর থেকে পুত্র শোকে পাগলিনী গোলাপজান বেওয়া ।
তার বিশ্বাস রাজাকার-আলবদর আর পাকবাহিনী কেড়ে নিয়েছে তার তিন পুত্রের জীবন। শূন্য করেছে তার বুক । চোখে -মুখে তার ক্ষুব্ধ অভিব্যক্তি। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহরের অফিসপাড়া আর পৌরসভা চত্তরে লোক সমাগমে তাকে প্রায় দিনই বকাবকি করতে দেখা যায় ।

সে বলে বেড়ায় , মুক্তিযুদ্ধে তার অনেক ছেলে মড়েছে ।এ দেশের রাজাকার -আলবদররাই মেরেছে তার সন্তানদের । সে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ভয়াবহ ঘটনাই হুবুহু বর্ণনা করে যা নিরেট সত্য এবং বাস্তব । বানানো বা পাগলামি নয় । অনেকে তাকে নিয়ে যেমনি তামাশা করে তেমনি অনেকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে । মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এমপি খোন্দকার মালেক শহীদুল্লা , সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এড.বদর আহমেদ,পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আঃহাই আকন্দ তাকে সম্বোধন করেন, গোলাপজান বুবু বলে । ঠাট্রা করে অনেকে নিজেকে রাজাকার বলে পরিচয় দেয় , এতে সে ক্ষিপ্ত হয় , অভিশাপ দেয় তাকে , অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে ।

যদি কেউ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয় , মুহুর্তেই সে শান্ত হয়ে পড়ে ; তার গালে হাত বুলিয়ে মায়ের মমতা জানায়। অনেকে দু”এক টাকার বেসাতি কিনে খাওয়ায় তাকে , অনেকে আবার খোঁচা দিয়ে রাগিয়ে দেয় । রেগে গিয়ে বলে , “ যারা আমার পুতের কাল্লা খাইছে তাগর বিচার আল্লায় করব ”। তার এই অনর্গল প্রলাপ শুনে মনে হবেনা এটা পাগলের পাগলামি। একটু মনোযোগ দিলেই মায়ের আহাজারীতে ফুটে উঠবে একাত্তুরে গনহত্যার শোক গাঁথা । সবাই জানে না এ পাগলিনীর পরিচয়। তার বাড়ি গন্ধর্বপুর আয়মান গাঙ্গের পাড়ে । বয়স পচানব্বই প্রায়।