ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র। ময়মনসিংহের তথা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন নদী ব্রহ্মপুত্র নদ । এটি লৌহিত্য নামেও পরিচিত । ব্রহ্মপুত্র নদ কয়েকবার এর গতি প্রবাহ পরিবর্তন করেছে । গাড়ো পাহাড়ের পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের উপরাংশের গতিপথ পরিবর্তিত হয়নি, কারণ এই অংশের স্রোত প্রবাহ পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে । গারো পাহাড়ের পর ব্রহ্মপুত্র নদ সমতল ভূমির মধ্য দিয়ে চলেছে এবং এর এই সমতল ভূমির গতিপথ কমপক্ষে দু’বার পরিবর্তিত হয়েছে । গাড়ো পাহাড়ের পশ্চিম দক্ষিণ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি প্রথমে ময়মনসিংহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর দক্ষিণ তীরে এবং শেরপুর জেলার উত্তর তীরে রেখে চলেছে ; এরপর টাঙ্গাইলের মধুপুর জঙ্গলের পাশ বহে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য ভাগ ও ঢাকা জেলার পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি সোনারগাঁওয়ের দক্ষিণ – পশ্চিমে লাঙ্গলবন্দের নিকট দিয়ে পথ করে বর্তমানে ধলেশ্বরী নামে পরিচিত গঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে । ব্রহ্মপুত্র নদের এই গতিপথ ষোঢ়শ শতাব্দী পর্যন্ত অব্যাহত থাকে ।
সপ্তদশ শতকে ব্রহ্মপুত্র নদের এই গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং এটি ভৈরব বাজারের নিকট সুর্মা – মেঘনা নদীর প্রবাহের সাথে যুক্ত হয় । ভন ডেন ব্রোক থর্টন (Thorton) ও রেনেলের মানচিত্রগুলির তথ্য এর প্রমাণ পাওয়া যায় । ভৈরব বাজারের নিকট হতে সুর্মা- মেঘনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের যুক্ত প্রবাহ দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয় এবং মেঘনা নদী নামে পরিচিত হয়ে সন্দীপের নিকটে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয় । আবার উনিশ শতকের মধ্যভাগে ময়মনসিংহ জেলা শহরের মধ্য দিয়ে ভৈরববাজার পর্যন্ত প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথের অবনতি ঘটে এবং যমুনা নদী নামে পরিচিত এর শাখা নদীর মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান স্রোত প্রবাহ ধাবিত হয় । ফুলছরির নিকট হতে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখারূপে যমুনা নদীর উৎপত্তি হয়েছে এবং বগুড়া ও পাবনা জেলাদ্বয়ের পূর্ব সীমানা ধরে চলে এটি গোয়ালন্দের নিকটে পদ্মা নদীতে মিলিত হয়েছে । উল্লেখ্য যে, ময়মনসিংহের অংশসহ গোটা নদটি বিগত ২ দশকধরে ক্রমশ: সংকীর্ণ হয়ে আসছে । বাঁধ ও ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে নদ শাসন , ভরাট , অবৈধভাবে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ ।