ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

moktijuddha

ময়মনসিংহে মুক্তিযোদ্ধা দুয়ারে দুয়ারে । ময়মনসিংহের ফুলপুরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের গোলামী থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাঁরা জান বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন এ এল নওয়াব আলী (৭৫) তাঁদেরই অন্যতম একজন। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সরকারী তালিকায় রহস্যজনক কারণে এ এল নওয়াব আলীর নাম নেই! নাম তালিকাভূক্তির জন্য ৩০/০৫/২০০৯ইং তারিখে আবেদনপূর্বক দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিলেও অদ্যাবধি কাজ হচ্ছে না।

জানা যায়, এ এল নওয়াব আলী আনসার ট্রেনিং প্রাপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ১১নং সেক্টরের অন্যতম সংগঠক এবং তৎকালীন ঢালু ইয়ৎ ক্যাম্পের (ভারত) ইন্চার্জ (বর্তমান ধর্মমন্ত্রী) অধ্যক্ষ মোঃ মতিউর রহমান এর নির্দেশে ঢালু যুব শিবিরে সংক্ষিপ্ত প্রাথমিক ট্রেনিং গ্রহণ করেন। এরপর অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল আলীম বুথের কোম্পানীর সাথে মিলিত হয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে নকলা থানার ছাতুগাঁও, ফুলপুর থানার রামসোনা ও ভাইটকান্দিসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছেন। সে সময় মযমনসিংহের ফুলপুর উপজেলাধীন হাটপাগলা গ্রামের সামছুল, ছনধরা গ্রামের জাফর আলী, শেরপুরের নকলা উপজেলাধীন গৌরদ্বার গ্রামের রহমত আলী, আহাম্মদ আলী, ছাতুগাঁও গ্রামের রুস্তুম আলী প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা তার সঙ্গে ছিলেন।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার হাটপাগলা গ্রামের মরহুম আব্দুল বারী সরকারের পুত্র প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এ এল নওয়াব আলীর নাম সরকারীভাবে তালিকাভূক্তির জন্য স্থানীয় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ আব্দুল হাকিম সরকার, শেরপুরের নকলা-নালিতাবাড়ি আসনের সাবেক এমপি মিজানুর রহমানসহ মাননীয় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোঃ মতিউর রহমানের সুপারিশ ও প্রত্যয়ণপত্রসহ আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে অদ্যাবধি এ এল নওয়াব আলীর নাম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সরকারী তালিকাভূক্ত হয়নি। আজ নয় কাল ইত্যাদি বলে বলে কালক্ষেপন করছেন কর্তৃপক্ষ। প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক মুক্তিযোদ্ধা এ এল নওয়াব আলী স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এখন জনমনে প্রশ্ন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সরকারী তালিকায় মরার আগে নওয়াব আলী তার নাম দেখে যেতে পারবেন কি?