ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 
mym,dhalu

ময়মনসিংহে ডালু সম্প্রদায়।ময়মনসিংহ সাবেক জেলার উত্তরে আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর বসবসরত ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর অন্যতম হচ্ছে ডালু সম্প্রদায়। নৃবিজ্ঞানীদের মতে ডালুরা ইন্দো মঙ্গোলয়েড গোষ্ঠীর একটি শাখা । ডালুরা নিজেদেরকে মহাভারতখ্যাত তৃতীয় পান্ডব মহাবীর অর্জুনের পুত্র বভ্রুবাহনের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। একাকী বসবাসকালে অর্জুন পরিভ্রমন অবস্থায় প্রাচীণ মনিপুর রাজ্যে উপনীত হলে সেখানকার রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার রুপে মুগ্ধ হয়ে তার পানি গ্রহণ করেন এবং সেখানে কিছুদিন কাটান। পরবর্তীতে রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের ঔরষে একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন এবং তার নামকরণ করেন বভ্রুবাহক। এই বভ্রুবাহকের বংশধর হিসেবেই ডালুরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকে। বভ্রুবাহন দীর্ঘদিনব্যাপি প্রবল পরাক্রমে মণিপুরে রাজত্ব করেন। তারই অধ:স্তন পুরুষ সুবলাসিং শত্র“পক্ষ কর্তৃক স্বদেশভূমি মণিপুর হতে বিতাড়িত হয়ে স্বীয় দলবলসহ আসামের সম্পূর্ণ মধ্যাঞ্চল ও দুর্গম গারো পাহাড় অতিক্রম করে বর্তমান বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে ভোগাই নদীর তীরে বারেংগাপাড়া নামক স্থানে প্রথম বসতি স্থাপন করেন। এটিই বর্তমানের ডালু কিল্লা অথবা ডালুগাঁও নামে পরিচিত। সংক্ষেপে এই স্থানকে ডালু নামে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীতে এই ডালুগাঁওকে কেন্দ্র করেই উত্তরে হাড়িগাঁও হতে দক্ষিণে হাতী পাগাড়,কুমারগাতী,সংড়া,যুগলী প্রবৃতি এলাকায় এবং কংশ নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি গড়ে ওঠে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশেষ করে ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলশ্র“তিতে বাংলাদেশে বসবাসকারী ডালু জনসংখ্যা প্রায় অনুল্লেখ্য পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এদের সংখ্যা ১ হাজারের কম।

ডালুদের বেশভুষা ,আচার ব্যাবহার ,রীতিনিিত এবং সামাজিক ক্রিয়া কান্ড প্রায় ক্ষেত্রেই হাজংদের অনুরুপ। প্রকৃতপক্ষে ডালুরা একটি পৃথক জাতিসত্ত্বার অধিকারী । বৃটিশ বিরোধী কৃষক আনোদালনে শেরপুর পরগনার বীর অধিনায়ক টিপু পাগলা ডালুদের পূর্ব পুরুষ বলে অনেকেই মনে করেন। এখনও ডালুদের মধ্যে পাগলপন্থী অনেকের দেখা পাওয়া যায় । এই পাগলপন্থীরা একেশ্বরবাদী এবং পৌত্তলিকাবিরোধী । পাগলপন্থী ডালুরা জটাধারী এবং দাঁড়িগোঁফ রাখেন। গলায় মোটাধরনের সাদা,কালো, এবং নীল রংয়ের পুঁতির মালা পরিধান করে থাকে। ডালুদের বিবাহ হিন্দুদের মতোই। আদিবাসী কল্রাণ সমিতি সূত্রে জানা যায়, আগেকার দিনে ডালু মহিলারা শাঁখা সিদুর ব্যবহার না করলেও এখন করেন ।