ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বাংলাদেশ সরকার গরিব দু:স্থ ও অসহায়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকল্পে দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে ভিজিএফ কর্মসূচী চালু করেছে। এই ভিজিএফ’এর চাল বরাদ্দে এবং বিতরণে উঠেছে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ । এতে সরকারের ভাবমূর্তী যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় দু:স্থরা । এই দুর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান , মেম্বার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা । পত্র পত্রিকায় ভিজিএফ চাল বরাদ্দে ,বিতরণে ,নিন্মমাণের চাল এবং ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ শিরোনামে অগনিত সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায় । কিন্তু পত্রিকায় খুব একটা দেখা যায় না যে, সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।

 

খবরে প্রকাশ, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৬শ’ ২৮ জন কার্ডধারীর মাঝে ১লাখ ৫৬ হাজার ২শ’৮০ কেজি ভিজিএফএর চাল বিতরণ করা হয়েছে , অভিযোগ উঠেছে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার যোগসাজশে ডিলাররা নিন্মমানের চাল সরবরাহ করে অবৈধভাবে মুনাফা লুটেছে ।প্রতি কার্ডধারী ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ওজনে কম দেয়া হয়েছে । ময়মনসিংহের গফরগাঁও , ভালুকা , ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, ঈশ্বরগঞ্জ , গৌরীপুর , হালুয়াঘাট , ফুলপুর , ধোবাউড়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গরীব ও দু:স্থদের জন্য পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে । প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে নির্ধারিত ১০ কেজির স্থলে ৫/৬ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে । এব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: হাবিবুল্লা জানান, এ ব্যাপারে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি ।

একজন দু:স্থ যিনি মাত্র ১০ কেজি চালের জন্য সারাদিন ধর্না দেন তিনি একটি উপজেলা থেকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে জেলার কর্মকর্তার নিকট সমাধান চাইবেন এটা ভাবাই যায় না । যদি কোন দু:স্থ যানও তাকে কি অফিস পাত্তা দেবে এমন প্রশ্ন থেকে যায় । ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দরিদ্ররা চাল পাবে ঈদের পর। চলতি কোরবাণীর ঈদে মুক্তাগাছায় হত দরিদ্ররা ঈদের পর চাল পাবে । মুক্তাগাছায় দরিদ্ররা জানান , ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে । জানা যায়,মুক্তাগাছায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টির নেতা ইউপি চেয়ারম্যানদের রশি টানাটানিতে ভিজিএফ এর আওতায় সত্তুর হাজার দরিদ্র পরিবার কোরবাণীর ঈদে চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । বঞ্চিতরা দশ কেজি চালের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের বাড়ি বাড়ি ধর্না দিচ্ছেন ।

 

সূত্র জানায়,উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জন্য ঈদে ৬৯১ টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ চালের আওতায় রয়েছেন ৭০ হাজার দরিদ্র পরিবার। কিন্তু স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বের কারণে ওই সব পরিবার চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত ঈদুল ফিতরে ৩টি দলের নেতাকর্মী ও ইউপি চেয়ারম্যানরা নিজেদের মাঝে ভাগাভাগি করে বণ্টন করেন ভিজিএফের চালের কার্ড। ওই সময় অধিকাংশ কার্ডের চালই কালোবাজারে বিক্রি হয়ে যায়। এতে বঞ্চিত হন দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। এ ঈদে সব কার্ডই কালোবাজারে বিক্রি করার পাঁয়তারায় স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক নেতা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এসব কারণেই ঈদের আগে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।৭ নং ঘোগা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লেবু জানান, রাজনৈতিক নেতাদের তালিকা জমা না দেওয়ায় তারা ভিজিএফের চাল বিতরণ করতে পারছেন না। ৯নং কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার জানান, রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারণে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা যাচ্ছে না।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবুল মিয়া জানান, চেয়ারম্যানদের জটিলতার কারণেই ভিজিএফের চাল ঈদের আগে বিতরণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এএসএম জাকারিয়া হারুন জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত তালিকা বণ্টনের চিঠি আমাকে না জানিয়েই ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে । এতে মারাত্নক জটিলতা দেখা দিয়েছে ।সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি জানান, প্রকৃত গরিবরা যাতে ভিজিএফের চাল পান এ জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ঈদের পর চাল বিতরণের । এমন চিত্র সারা দেশের । শুধু দু:স্থদের ক্ষেত্রেই নয় আজকাল দুর্নীতি সমাজের একটি অভিশাপ বলে বিবেচনা করা হয় । জাতীয় জীবনে যদি দুর্নীতি থাকে তবে সেই জাতি অচিরেই অঞ্জতা , সন্ত্রাস ও বিশৃংখলাপূর্ণ হয়ে যাবে । একটি জাতি সমৃদ্ধশালী হতে পারে যদি তারা সততা ও ন্যায়বিচার মেনে চলে । তাই মানুষের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে সত্যের অন্বেষণ এবং উন্নতি । যদি একটি জাতি সঠিকভাবে এগিয়ে যায় তবে সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছতে বাধ্য । বিশ্বের ইতিহাস বলে যে , যে দেশ সততা ও সত্যবাদিতা মেনে চলেছে সে দেশই সফল হয়েছে । দুর্নীতিবাজরা অন্যের অমঙ্গল কামনা করে । তারা শুধু নিজেদের কথা ভাবে । কে দু:স্থ কে অসহায় এটা তারা ভাবে না । এজন্য দুর্নীতিকে সামাজিক জীবনের অভিশাপ মনে করা হয় । জাতির জন্য এটা হুমকিস্বরূপ । তাই মানুষের জীবন দু:সহ ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে পড়ে।