ক্যাটেগরিঃ কৃষি

pum oil froot

ময়মনসিংহে পামওয়েল চাষ। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় চাষ হচ্ছে অর্থকরী ফসল পামওয়েল। চাষী পেয়েছেন আশানুরুপ ফলন । প্রতিটি গাছে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি তেল আহরণ হয়েছে বলে কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে । ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ১নং দুল্লা গ্রামের কৃষক রিয়াজুল করিম ব্যক্তি উদ্যোগে তার পুকুর ও ফসলী জমির ক্ষেতের আইলে ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০৮ সালে ৪০টিরও অধিক পাম গাছের চারা রোপন করেন । রোপিত গাছের ১৬ টিরও অধিক গাছে এখন কাঁদিতে কাঁদিতে পরিপক্ক ফল । বাংলাদেশ পামওয়েল উন্নয়ন প্রকল্প ও পামওয়েল রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট লি: সূত্রে জানা যায় , এটি বর্ষজীবি উদ্ভিদ । টানা ৬০ – ৭০ বছর ফল দেয় । ঝড় জলোচ্ছাসে গাছের ক্ষতি হয় না । অন্যান্য গাছ থেকে ১০ গুণ বেশি অক্সিজেন দেয় ।

১ একর পামওয়েল চাষে ঘরে বসেই মাসে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব । প্রতি গাছে মাসে ১ হাজার টাকা আয় হয় । একটি পরিবারের সারা বছরের তেলের চাহিদা পূরণের জন্য ২টি গাছই যথেষ্ট । ২০ ফুট দূরত্বে ২ ফুট বাই ২ফুট গর্ত করে মাটির সাথে ৫/৭ কেজি গোবর , ১শ’ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এম,ওপি মিশিয়ে চারা রোপন করতে হয় । ফল থেকে হাতে ও মেশিনে তেল সংগ্রহ করা হয় । ফল পানিতে সিদ্ধ করে চিপন দিলে তেল বের হয় । টঙ্গী মাজুখানে ইতিমধ্যে মিল স্থাপন করা হয়েছে । ভবিষ্যতে সারাদেশেই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ মিল স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে । পামচাষী রিয়াজুল করিম জানান, পাশ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার একটি নার্সারী থেকে চারা সংগ্রহ করে ক্ষেতের আইলে রোপন করা হয় । মুক্তাগাছা কৃষি অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, এই গাছ যত বড় হবে তেল উৎপাদন তত বাড়বে । উৎপাদিত ফল থেকে তেল সংগ্রহের জন্য উদ্যান উন্নয়ন বিশেষজ্ঞের সহযোগীতা নেয়া হয়েছে । pum oil tree

জানা যায়,পামওয়েল নামক গাছটি ভোজ্য তেলের একটি বিশুদ্ধ ও সমৃদ্ধ উৎস। এ মহাদেশে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় সর্বপ্রথম পাম গাছ লাগানো হয়। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বিপের বোগার বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৯৪৮ সালে এই গাছ দেখা যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিইস গিনিনিসি। আদি নিবাস আফ্রিকা মহাদেশে।

মন্তব্য ৪ পঠিত