ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

hindu nare

হিন্দু নারীদের বৈশম্যের জীবনযাত্রা । বাংলাদেশে হিন্দু সমাজ দায় ভাগ আইনের বিধান মতে পরিচালিত হয়। হিন্দু আইনে নারী ও পুরুষের উত্তরাধিকার আইনে নারী ও পুরুষের বৈষম্য অনাদিকালের । হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে নারীদের অধিকার নেই বললেই চলে ।
হিন্দু নারী তার স্বামীর পরিবারে আশ্রিতা মাত্র। বিবাহিতা নারী স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর পরিত্যক্ত বিষয় সম্পত্তি জীবদ্দশায় ভোগ করতে পারে বটে কিন্তু ওয়ারিশ হয় না ।বিংশ শতাব্দীর যুগে আজ পৃথিবীর সর্বত্র যে ক্ষেত্রে নারী মুক্তি ও নারী স্বাধীনতার কথা প্রতিনিয়ত ধ্বনিত হচ্ছে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের বুকে আইনের অমানবিক নিষ্ঠুর ধারাগুলো জগদ্দল পাথরের মত চেপে এসে আছে। যে কন্যা সন্তান জন্ম থেকে অন্ধ বা বিকলাঙ্গ তার পিতা মাতার মৃত্যুর পর সহায়সম্বলহীনভাবে কিভাবে বেচে থাকে।স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর বিষয় সম্পত্তি ভোগ করতে পারবে কিন্তু উত্তরাধিকার লাভ করতে পারবে না। আইনের এই অমানবিক ধারাটির প্রেক্ষিতে মৃত স্বামীর ভাই-দেবর থেকে শুরু করে অন্য নিকট আত্মীয়দের থেকে অসহনীয় অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করে অভিশপ্ত বৈশম্য জীবনযাপন করতে হয় হিন্দু নারীদের একদিকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত এবং অপরদিকে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত এক অসহায় নারী কোথায় দাঁড়াবে। এই বিষয়টি মানবাধিকার দিক থেকেও আজ পর্যন্ত বিবেচিত হয়নি । বর্তমান এই সভ্য পৃথিবীতে মানুষের বাচার দাবিকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের হিন্দু দায়ভাগ আইন ছাড়া আর কোন আইনের প্রচলন কোথাও নেই।

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ, রামায়ণ,মহাভারত অথবা অন্য গ্রন্থের এরকম কোন বিধান নেই যে হিন্দু নারীরা পৈত্রিক ও স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না । বাংলাদেশের হিন্দু নারী সমাজ অবহেলিত লাঞ্চিত হয়ে আছে এ দায়ভাগ আইনের নিষ্ঠুর ধারাটির কঠিন আবর্তে ।

বাংলাদেশের নারী মুক্তি ও নারীর সমান অধিকারের চিরন্তন দাবী বিবেচনা করে যুগ যুগ ধরে লালীত নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া ও কালাকানুন রদ যৌতুক নিরোধ আইনসহ অনেক আইন প্রনীত হয়েছে । কিন্তু হিন্দু নারীদের প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে অদ্যাবধি তা মেনে নিতে পারেনি। “মানুষের জন্য আইন আইনের জন্য মানুষ নয়।
হিন্দু নারীরা জানান , হিন্দু আইন সংশোধন, পরিবর্তন,পরিবর্ধন এবং সংযোজনের জন্য সকল শ্রেণীর সুপারিশের মাধ্যমে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে বর্তমান সংসদে এ ব্যাপারে বিল আকারে উত্থাপন করে আইন প্রনয়নে সহায়তা করা যেতে পারে।