ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমারে মাফ কইরা দেন । পেডের দায়ে চুরি করছি । আর করতাম না । আমারে মারেন- কাডেন- পুলিশে দেন; কিন্তু মাথা নাইড়া কইরেন না । বউ-পোলাপান, আত্নীয়- স্বজন জানলে মরা ছাড়া গতি থাকবো না। কেউ শুনেনি ষাটোর্ধ এই বৃদ্ধের আকুতি । চুরির অপরাধে অবশেষে চুল কেটে দেয়া হলো তার । ঘটনাটি ঘটেছিলো ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত জেলা জজ কোর্টের ২শ’ গজের মধ্যে । এমন অমানবিক সাজার ঘটনা আমাদের দেশে প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে ।
অমানবিক সাজা আইন বহির্ভূত – এটা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় কাজ । যেমন- নাকে খত দেয়া , জুতার মালা গলায় পরানো , থুথু চাটানো , মাথা নেড়ে করা, দোররা মারা, এক ঘরে করা এবং মাটিতে পুতে ঢিল বা পাথর ছোড়া ইত্যাদি । অমানবিক সাজা মানুষের মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক বংশ মর্যাদা নষ্ট করে । ভূক্তভোগী সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপণ্য হওয়ার কারণে অনেক সময় আত্নহত্যার পথ বেছে নেয় । অনেক সময় অমানবিক সাজা মানুষকে হিংস্র হতে সহায়তা করে ।

যেহেতু মানুষ সামাজিক জীব এবং সৃষ্টির সেরা জীব, তাই কোন মানুষকেই অমানবিক সাজা দেওয়া কোনক্রমেই বৈধ কাজ নয় । এটি একটি আইন বহির্ভূত এবং সংবিধান বহির্ভূত কাজ।

যেহেতু অমানবিক সাজা আইন বহির্ভূত , সেহেতু কোন মানুষকেই এ ধরনের সাজা দেওয়া যাবে না । বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ৩৫নং ধারায় বলা হয়েছে কেউ কাউকে অমানবিক সাজা দিতে পারবে না । সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের ৫নং ধারায়ও এ কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ।
এব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের সর্বাগ্রে ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন । তাদের উচিত আইনগত দিক তুলে জনগণকে সচেতন করা , অপরাধীকে বিচার বিভাগের কাছে সোপর্দ করা এবং তা প্রচার করা । যারা ধর্ম প্রচার কাজে সমৃক্ত তাদের উচিত মানুষকে বোঝানো যে, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব এবং তার মর্যাদা নষ্ট করা যাবে না । অমানবিক সাজা মানুষের মনুষত্বকে নষ্ট করে এবং সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকে না । তাই আসুন এব্যাপারে সচেতন হই।