ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

cotchময়মনসিংহে অবহেলিত কোচ সম্প্রদায় । ভারতীয় উপমহাদেশের আদিবাসীদের মধ্যে কোচরা অন্যতম প্রাচীন জনগোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত। কোচরা দ্রাবিড় এবং মঙ্গোলিয় উভয় গোষ্ঠীর সংমিশ্রণে উদ্ভুত জনগোষ্ঠী । তারা নিজেদেরকে সূর্যবংশীয় বলে দাবী করে থাকে। হিন্দু ধর্মের প্রভাবে প্রভাবান্বিত কোচরা ১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পুত্র সন্তানরাই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী । ইতিহাসে দেখা যায়, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষাংশে কোচেরা আসামের কামরুপে এক শক্তিশালী রাজ্যের গোড়াপত্তন করে এবং ১৫৫০ খ্রীষ্টাব্দে তাদের রাজা হাজোর নেতৃত্বে তারা কাছাড়াদিগকে আসাম থেকে বিতাড়িত করে সমগ্র আসাম করায়ত্ব করে । তাদের এই রাজত্বকাল দু’শত বৎসরাধিককাল চলে । পরবর্তীতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল হতে মোঘল এবং পূর্বাঞ্চল হতে অহোমদের আক্রমণে কোচরা পর্যুদস্ত হয়ে বিভিন্ন দিকে পলায়ন করে এবং বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার , বাংলাদেশের রংপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহে ছড়িয়ে পড়ে । ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার সালোরা , হাতিল, জয়রামপুর, কিসমতপুর, ঘাটুরী, তারাটি, রওয়ারচর, গৌরীপাড়া, কাঁঠালিয়া, কমলাপুর, চন্দনিআটা, কান্দিগাঁও অঞ্চলে ৩ সহস্রাধিক কোচ পরিবার বসবাস করে । আধুনিক যুগেও এরা প্রায় সকলেই ভূমিহীন , অশিক্ষিত ও দরিদ্র । কোচ পরিবারের অধিকাংশই বাঁশের সামগ্রী তৈরি কিংবা দিনমজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে । বাঁশ সংকট , মূল্যবৃদ্ধি এবং বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমে যাওয়ায় এ শিল্পেও চলছে সংকট। রওয়ারচর গ্রামে কোচদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখা যায় , কুড়েঘরে বসবাসকারী কোচদের নেই কোন টিউবওয়েল । অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের । বিদ্যুৎ নেই বাড়িতে । হারিকেন অথবা কুপি বাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে শিশুদের । অর্থাভাবে আজও তারা চিকিৎসা নেয় হাতুড়ে ডাক্তার কবিরাজদের । সারা মুক্তাগাছায় কোচদের একই অবস্থা । তারা সরকারী ও বেসরকারী সহযোগীতা দাবী করেন ।