ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

cotra

এক সময় গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ছিলো ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। গ্রামাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এখনও এর দেখা পাওয়া যাবে। কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি। বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অনেক অঞ্চলে চোতরা নিয়ে রয়েছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডাল-পাতা দিয়ে চোর পেটাতে দেখা যেতো । গাছটি হারিয়ে যাওয়ায় চোরেরা খুশি। এখন তাদের খেতে হয়না চোতরার পিটুনি ।

আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ, হাপানি, গেটে বাত, মামস, রক্তপড়া, বুকধরফর, বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।