ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বিশ্বে ৩ ভাগ জল এক ভাগ স্থল । এই ৩ ভাগ স্থলের উপমহাদেশের বাংলাদেশ , ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া অন্যকোথাও স্থল বা ভূমি বা জমি নিয়ে নিজ দেশের মানুষে মানুষে আভ্যন্তরীণ কলহ -হানাহানি , ঝগড়া-মারামারি , মামলা -মোকদ্দমা , আইন- আদালতের শ্মরনাপন্ন হতে হয় আমার জানা নেই । জমির প্রকৃত জমির মালিক কে ? আমার উত্তর সৃষ্টিকর্তা । মানুষ ভোগ দখলকারী মাত্র। অথচ আমরা দাবী করে থাকি জমি আমার । পন্ডিতগণ বলেন যে, পৃথিবীতে যত যুদ্ধ ও রক্তপাত হয়েছে তার অধিকাংশ হয়েছে ভূমির কারণে । রাজার রাজ্য বিস্তারের জন্য সংঘটিত হয়েছে অসংখ্য যুদ্ধ , ঝরেছে অজস্র রক্ত । রাজ্য রাজ্য বা আধিপত্য বিস্তারের মূলে রয়েছে এই ভূমি । পৈত্রিক সূত্রে ল্যান্ড লর্ড হিসাবে আমাদের অঞ্চলে আমার পরিবার সুপরিচিত । জ্ঞান হওয়ার পর থেকে পারিবারিকভাবে আমরা ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার সন্মুখীন যার কবল থেকে আজ পর্যন্ত মুক্ত হতে পারিনি । বাংলাদেশে একটি প্রথা আজো চালু আছে । সাত ড্রিগ্রি এক দখল । দখল যার জমি তার । আমরা কি তাহলে এখনও মধ্য যুগের মানুষ । নিজের জমি পেতে ৭টি ডিগ্রি অর্জনের পরও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সর্বাগ্রে। জমি সংক্রান্ত কোন ঝামেলা সৃষ্টি হলেই আমরা শ্মরনাপন্ন হই পুলিশের কাছে । পুশিল কি ভূমি বিরোধের সমাধান দিতে পারে । এক উত্তর না । পুলিশ পারে ভূমি বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে । তারপরও জমি আমার এই দাবী করে আমাদের দেশে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ পুলিশে শ্মরণাপন্ন হন । এটা আমাদের অজ্ঞতা । দখলকারীরা যখন ভূমি সংক্রান্ত আইনের প্রতিষ্ঠাতা সেখানে ভূমি জটিলতার সমাধান একটি দীর্ঘমেয়াদী বিষয় নয় কি ? বাংলায় প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে গুপ্ত, পাল, সেন, খলজী, তুর্কী, সুলতান, শাহী, মুগল, খান অত:পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী গায়ের জোড়ে বেদখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বাংলার ভূমি । এরা অবৈধভাবে হন ভূমির মালিক । উপমহাদেশে সম্রাট শেরশাহ সর্বপ্রথমে কবুলিয়ত ও পাট্রা প্রদানের মাধ্যমে ভূমিতে কৃষকের মালিকানা নিশ্চিত করেন এবং ভূমির জন্য দেয় খাজনার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেন যাতে সন্দেহ ও উৎপীড়নের কোন সুযোগ না থাকে । সম্রাট আকবর , শেরশাহ কতৃৃক প্রবর্তিত পদ্ধতির আরও উন্নতি বিধান করেন । পরবর্তীকালে ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলার দেওয়ানী লাভের পর ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্ণর জেনারেল নিযুক্ত হয়ে আসেন এবং রাজস্ব আদায়ের পূর্বতন প্রথা পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ডাককারীর নিকট থেকে ৫ বছর মেয়াদী (৫সালা) জমিদারী বন্দোবস্ত দেন, পরে ১৭৭৭ সালে বার্ষিক ভিত্তিতে বন্দোবস্ত দেন । এ প্রথায় উচ্চহারে রাজস্ব আদায়ের কারণে কৃষকের উপর অত্যাচার উৎপীড়ন বাড়তে থাকে । সৃষ্টি হয় অসন্তোষ । এই অবস্থা দূরীকরণের জন্য লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৮৯ সাল দশ সালা বন্দোবস্ত প্রথা চালু করেন এবং ১৭৯৩ সালে এটিকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা হিসাবে বলবৎ করেন । উদ্দেশ্য ভুমি ও কৃষির উন্নতি সাধন ।