ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

বাংলায় এ পর্যন্ত ভূমির ৩টি জরিপের মাধ্যমে খতিয়ান সৃষ্টি করা হয় । বৃটিশ আমলে সি,এস , পাকিস্তান আমলে আর ,ও ,আর এবং বাংলাদেশ আমলে বিএস । হাল খতিয়ান চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত চালু ছিল এবং বর্তমানে নেই এরকম খতিয়ান সমূহকে খতিয়ান বলে । এই সাবেক খতিয়াগুলি ভূমির ধারাবাহিক পরিচিতির জন্য প্রয়োজন । এছাড়া সাবেক খতিয়ানগুলির হাল খতিয়ান হিসাবে চালু থাকাকালে সম্পাদিত সকল দলিল, মামলা-মোকদ্দমার রায়ে , ডিক্রিতে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে এই খতিয়ানগুলি লেখা হয়েছিলো । খতিয়ানগুলি যা সাবেক খতিয়ান নামে পরিণত হয়েছে , তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় । সংশ্লিষ্ট দলিল দস্তাবেজে সাবেক খতিয়ান নং বহাল থাকায় এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম । সি,এস, খতিয়ান : এই খতিয়ানগুলি ১৯১০-২০ সনের মধ্যে প্রস্তুত হয়েছিলো । একে সাবেক খতিয়ান বলে । এস, এ , খতিয়ান – স্টেট একুইজশান এন্ড এ্যাক্টের ৩ ধারার আওতাধীন ৪৮২৬ -এল , আর -৪৮৩৬ এল আর নং তারিখ ২/৪/১৯৫৬ বিজ্ঞপ্তির মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত এ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস এ খতিয়ান বলে পরিচিত ।সরকার কর্তৃক জমিদারী দখল একটা স্মরণীয় ঘটনা বিধায় এই নামের সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত ।
১৯৫৬ সালের ১৪ এপ্রিল একই সাথে সকল জমিদারী ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ তালিকা প্রণয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় । ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত (আর ,ও ,আর) এই কার্যক্রমের মাদ্যমে সর্বনিন্ম ভূমি মালিকের নাম ও তার জমির বিবরণাদি সম্বলিত একটি হাতেলেখা রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় । এটিই এস,এ খতিয়ান নামে পরিচিত । এ তিন কপি প্রস্তুত করে একটি জেলা রেকর্ড রুমে, এক কপি তহশলি ( ইউনিয়ন ভূমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয় । ১৯৮৫/৮৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ভূমি রেকর্ড ও জরিপের (বিএস)কার্যক্রম হাতে নেয় । এই জরিপের চূড়ান্ত রেকর্ড উপরোল্লিখিত অফিসে প্রেরিত হয়েছে সেখানেই দেখা দিয়েছে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা , দাঙ্গা ফ্যাসাদ, খুন-জখম , মামলা – মোকদ্দমা । সি,এস এবং আরওআর জরিপ রেকর্ড নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন দেখা না দিলেও বিএস জরিপ ও রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠে । এই রেকর্ডে সৃষ্ট ভূমি মালিকদের নেই বি এস , আর ও আর এর সাথে কোন মিল । সংশ্লিষ্ট জরিপকারীরা উৎকোচ নিয়ে নামে বেনামে , দখলদার এবং মনগড়া ব্যক্তিদের জমির মালিক বানিয়ে দিয়েছেন । ভূক্তভোগী আমার পরিবার : আমার কর্তামা (দাদী) আর,ও,আর রেকর্ডে ভূমির মালিক । সি,এস মূলে ভূমি মালিক কর্তামার বাবা । বি এস রেকর্ডে ঐ ভূমির মালিক জনৈক ব্যক্তি । কর্তামা ৮০ এর দশকে গত হয়েছেন । আমার বাবা দুই হাজারের দশকে মা’র ওয়ারিশ মূলে ঐ ভূমি নিজ নামে মিউটেশন করেন । এখানে বলা প্রয়োজন যে, মিউটেশনের বাংলা হলো পরিবর্তন । খতিয়ানে নাম লেখনভুক্ত করা বা জমিজমার ভাগ বা পরিবর্ত কে বুঝায়। এতে ক্রোধান্বিত হয়ে ভূয়া বিএস ধারী কূটকৌশল অবলম্বন করে । আমার এক জেঠাতো বোনকে দিয়ে ওয়ারিশ দাবী করিয়ে বাবার নামে মিউটেশন বাতিলের আবেদন করে । সংশ্লিস্ট সহকারী কমিশনার ভূমি কোন রকম যাচাই বাছাই না করে ঐ মিউটেশন বাতিল করে দেয় । এদিকে বিএস এ ভূমির মালিক দাবীদার এর ওয়ারিশগণ আমার কর্তাকে দাতা এবং বিএস বর্ণিত (তিনিও গত হয়েছেন) ব্যক্তিকে গ্রহিতা দেখিয়ে একটি জাল ( যে দলিলের কোন অস্তিত্ব নেই) দলিল সম্পাদন করে । তৎপরবর্তীতে এই জাল দলিল এবং বিএস দাবীদারের ওয়ারিশগণ জমিটি অন্য ব্যক্তিদের নামে (সম্প্রতি৩/৪) বছরের মধ্যে রেজিস্ট্রিমূলে বিক্রি করে দেন । জমির মালিক আমার বোনও হলো না আমরাও হলাম না । এবার ভাবুন, এই জমি এখন আমরা মালিক প্রতিষ্ঠিত করতে হলে মামলা মোকদ্দমা করে কয়টি ধাপে লড়াই সংগ্রাম করতে হবে । আরেকটি জটিলতা : সি এস মালিক আমার দাদু ,আর ও আর মালিক আমার বাবা এবং উনার আরো দুই ভাই । তন্মধ্যে একজন জেঠা গত হয়েছেন । আমার জেঠি সম্পূর্ণ ভূমি আমাদেরই এক বর্গাদারের নিকট বিক্রি করে দেন । ক্রেতা একজন নায়েব । সাব রেজিস্ট্রার কোন যাচাই বাছাই না করে এক জনের ভূমি অন্য ব্যক্তিকে ক্রেতা বানিয়ে বিক্রি করায় সৃষ্টি হলো আরেক জটিলতা । এখন এই জমি আমাদের নামে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ঐ দলিল বাতিল করতে হবে । এরপর আবার দখল । এভাবেই শুরু হয় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ।