ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

আমরা বাপু রাজনীতি বুঝি না । বুঝি পেডনীতি । সারাদিন ভিক্ষা কইরা বউ পোলাপান নাতি নাতনী লইয়া মোটা ভাত কাপড় অইলেই অইলো । ভিক্ষা না পাইলে সংসার অচল। শালার রাজনীতির দলগুলার নেতা পেতারা নিজেরা ভালা ভালা খাউন ঠিকই খাইতাছে । জেলে গিয়াও ভালাডাই খায়। গরীবের চাইল চুরি কইরা বিরাট বিরাট বাড়ি ঘর বানায় । হেরা আমগর কুইরা ঘরের খবর লয় না । বাপের ঘরে খাইয়া পুলাপান বনের মইষ তাড়াইতে মিছিল করে । ককটেল বুম মারে। গাড়ি ভাংগে। আর লাত্তি মারে আমগর পেটে । হরতালের কারণে আইজ যে টেহার ভিক্ষা পাইছি তা দিয়া খাওনও জুটবো না । হুনছি সামনে আরো দুই দিনের হরতাল দিছে। কাইল বউ পোলাপান লইয়া একবেলা খাইতে অইবো । পরের হরতালে কি অইবো আল্লায় জানে। হালারা রাজনীতি বাদ দিয়া আমগর খবর ল’। আমগর লাইগ্গা হরতাল ডাক। তাইলে সে বুঝমু গরীবের বালা চাষ । দারিদ্রতার কষাঘাতে নিষ্পেষিত হতাশা আর ক্ষোভের অভিব্যক্তি এভাবেই প্রকাশ করলেন, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার পাড়াটঙ্গী গ্রামের ভিক্ষুক কালু মিয়া (৮০) । কালু মিয়া বলেন , হরতালের লাইগ্গা অধিকাংশ দোহান পাট বন্ধ থাকে । আর যাও খোলা থাহে তাও নাই বেচাকেনা । গাড়ি ঘোড়াও চলে কম । বাসস্ট্যান্ডগুলিতেও লোকজন থাহে কম । যারা থাহে তারাও এই বাসস্ট্রান্ড থেইক্কাই টেহা কামাই করে । এগর কাছেও টেহা পয়সা নাই ,তাই এরাও ভিক্ষা দিতে চায় না । আগে দৈনিক ৩/৪শ’ টাকা কামই হইছে । হরতালের লাইগ্গা এহন ১শ’ টেহাও অয় না । ১শ’ টেহা দিয়া কি সংসার চলে কন। জিনিষ পত্রের যে দাম অইছে । কামাই তো বাড়ে না । কমে । পিন্ডা দিন দিন অচল অইয়া পড়তাছে । শীতের দিনে বেলাও ছোড অইয়া গেছে । কেমনে যে বেলা গইরা যায় বুঝি না কিন্তু ভিক্ষার খলি তো ভরে না। এরপর আবার হরতালের দিন ভিক্ষা চাইলে, মানুষ উল্টা মাফ চায় । বলে, চাচা মাফ করেন । কইনচেন দেহি, মাফ কইরা দিলে কি আমগর খায়ুন জুটবো ? শুধু এই ভিক্ষুক কালুই নয় ; অত্রাঞ্চলে হরতালের প্রভাব পড়েছে দিনমজুর তথা নিন্ম আয়ের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে । কাজকর্ম কমে যাওয়ায় তারা অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন । অভিশাপ দিয়ে তারা বলছেন , হরতাল দিয়া যারা আমগর পেটে লাথি মারছে তাগর বিচার আল্লায় করবো ।