ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে নবজাত শিশুর অসুখ-বিসুখে প্রথম ডাক্তার তার মা । রান্না ঘরে ব্যবহৃত রসুন ,সর্ষের তেল ইত্যাদির মত আঙ্গিনায় প্রাপ্ত বাসক পাতার রস ওষুধের উপকরণ। বাড়িতে কারো কফ-কাশি হলে আঙ্গিনার ঝোপ-ঝাড় থেকে বাসক পাতা তুলে এনে তা পিষে এক চামচ রস হালকা গরম করে খেলে কাশি সেরে যায় একথা গ্রামাঞ্চলের প্রায় সব মায়েদেরই জানা । কাশির ওষুধ হিসেবে বাসকের কথা আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহিতায় উল্লেখ রয়েছে । পরম্পরায় গ্রাম বাংলায় বাসকের রস এন্টিবায়োটিক হিসাবে সমাদৃত ।

বৈদিক যুগে এর ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে শরীরের ঊর্ধ্বভাগের রোগে । বিশেষ করে ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে –এর ব্যবহার সার্বজনীন । ক্ষোপ জাতীয় গাছ বাসক প্রায় ৫/৬ ফুট উঁচু হয়। আষাঢ় শ্রাবণে সাদা ফুল হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম “আদাটুডা বেসিকা নিছ”।

বাংলাদেশের সর্বত্র গ্রমাঞ্চলে লোকালয়ের আশেপাশে ঝোপ-জঙ্গলে এ গাছ পাওয়া যায় । অনেক গৃহস্থ বাড়ির আঙ্গিনার চারপাশে বাসক গাছ লাগিয়ে বেড়া দেন । দেশজ চিকিৎসায় কাশি ছাড়াও বিভিন্ন রোগে – এর ব্যবহার রয়েছে । অম্লপিত্ত , কৃমি, রক্তশ্রুতি শ্বাসকষ্ট , গাত্র দুর্গন্ধ , খোস পাঁচড়া ,অর্শ , বসন্ত , টিউমার , এবং জীবাণুনাশে এমনকি গায়ের রং ফর্সা করণেও বাসক পাতার ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে । খোকশিয়া গ্রামের জনৈক শিক্ষক জানান , তিনি সব রোগেই বাসক পাতার চিকিৎসা দেন । তার বিশ্বাস , বাসক পাতা সর্ব রোগের মহৌষধ ।
আধুনিক চিকিৎসার দোর্দন্ড প্রতাপে বিনষ্ট হচ্ছে গ্রাম বাংলার আবহমান চিকিৎসা পরম্পরা । সে পথেই বিস্তৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে বাসক গাছ ।