ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

অনাদি মহাকালের চক্রলীলার আবর্তে নিয়ত ঘুরছে মানব জীবনে । বিশ্বসৃষ্টির সর্বত্রই সৃষ্টি- ধবংশ , জন্ম- মৃত্যুর শ্বাশত ও অমোঘ বিধান । এই বিধান থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কারো নেই । তবু জন্ম- মৃত্যুর এই রহস্যময় খেলায় অমর হওয়ার একান্ত বাসনায় মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই । আর এই চেষ্টার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানব জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব । কর্মই তার এই শ্রেষ্ঠত্বের নির্ধারক । আজ ৩রা নভেম্বর , জেল হত্যা দিবস । মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কের কালিমাপাত লেপন করা হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের এই দিনে । ঐ বছর ১৫ আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩রা নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রী সভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় । ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয় , স্তম্ভিত,হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়েছিলো সারা বিশ্ব । পৃথিবীর সর্বদা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসাবে স্বীকৃত সে দেশের কারাগার । বাংলাদেশে কারাগারে হত্যাকান্ডের ঘটনা একটি নির্লজ্ব দৃষ্টান্ত । হত্যাকারীরা এ্ই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে কি দাবীয়ে রাখতে পেরেছে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব । পারেনি । উল্টো হত্যাকারীরাই আজ গণধীকৃত মানুষরূপের শয়তান হিসাবে ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছে। আমৃত্যু জাতীয় এই চার নেতার ছিলো স্বদেশ প্রেম । বাংলাদেশের বাঙ্গালীর বৃহৎ কর্মযজ্ঞে সংক্ষিপ্ত জীবন পরিসরে মানব কল্যাণে যে অবদান রেখে গেছেন , সেই অবদানের কারণে মানুষ তাদের আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । তাদের হত্যার মাধ্যমে মৃত্যু তাদের কেড়ে নিয়েছে বটে কিন্তু কর্ম তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে । নিজ কর্মের দ্বারাই তারা আজ অমর হয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে।