ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 
jeban

মুক্তাগাছায় কিংবদন্তিতুল্য জমিদার জীবন বাবুর নাম আজও মানুষের মুখে মুখে । হৃদয়বান জমিদার হিসাবে তিনি ছিলেন প্রবাদপুরুষ । এখনও মুক্তাগাছার কেউ কেউ ভালো ভাবে চলাফেরা করলে , কিছু ভালো খাওয়া-দাওয়া করলে মোটকথা সুন্দরভাবে যারা জীবন-যাপন করেন তাদেরকেই মানুষ ঠেস দিয়ে বলেন,বেটার জীবন বাবুর স্টাইল । সেই জীবন বাবু ও তার পরিবারকে নিয়ে আজ কিছু বলবো । মুক্তাগাছার জমিদারদের একজন হরেরাম । এই হরেরামের বাড়িটি হচ্ছে বর্তমানে আমরা যেটিকে রাজবাড়ী বলে চিনি । মুক্তাগাছার জমিদারীরর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর মেজো ছেলে । এ বংশের জমিদার আটানি বাড়ির জমিদার বলে পরিচিত । আটানির জগৎ কিশোর আচার্য চৌধুরীরর সুনাম ছিল । জগৎ কিশোরের ৪ পুত্র জীতেন্দ্র ,বীরেন্দ্র ,নৃসিংহ ও ভূপেন্দ্র কিশোর আচার্য চৌধুরী । জীতেন্দ্র কিশোরের পুত্র হচ্ছেন জীবেন্দ্র কিশোর আচার্য চৌধুরী (জীবন বাবু)। জন্ম ১২ অক্টোবর ১৯০৩ মৃত্যু ১লা ডিসেম্বর ১৯৯২ ইং।

জীবন বাবু বিখ্যাত ‘আমি’( দুইখন্ড) গ্রন্থের লেখক ।তিনি মুক্তাগাছার ঐতিহ্যবাহী রামকিশোর উচ্চ বিদ্যালয়েরে শিক্ষার্থী ছিলেন । পরবর্তীতে স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন । তার পিতা জীতেন্দ্র কিশোর লাইব্রেরী নামে মুক্তাগাছায় একটি পাঠাগার গড়ে তুলেছিলেন । জীবেন্দ্র কিশোর বই পড়ায় মনোযোগী হওয়ায় পিতার প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি আরও সমৃদ্ধ করেন । এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার সবচেয়ে বড় পাঠাগার । পরবর্তীতে ১০ হাজার বইয়ের পাঠাগারটিকে ‘মুক্তাগাছা সংগ্রহ’ নামে বাংলা একাডেমিতে স্থানান্তর করা হয় । শৃঙ্খল , দায়িত্ববান, সততা, সত্যবাদিতা, সময়েরমূল্য ,স্বদেশ প্রেম, সহিষ্ণুতা উদার সকল গুণের গুণী ছিলেন এই জীবন বাবু ।

হে অসাধারণ ব্যক্তি জীবন বাবু মৃত্যু তোমার দেহ কেড়ে নিলেও তোমার কর্ম আমাদের কাছে অমর হয়ে থাকবে চিরকাল । আনাদি মহাকালের চক্রলীলার আবর্তে নিয়ত ঘুরছে মানব জীবন । বিশ্বসৃষ্টির সর্বত্রই সৃষ্টি – ধ্বংস, জন্ম মৃত্যুর শ্বাশত ও অমোঘ বিধান । এই বিধান থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কারো নেই । তবু জন্ম মৃত্যুর এই রহস্যময় খেলায় অমর হওয়ার একান্ত বাসনায় মানষের চেষ্টার অন্ত নেই । আর এই চেষ্টার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানব জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব । কর্মই তার এই শ্রেষ্ঠত্বের নির্ধারক । কর্মহীন জীবনের স্থবিরতা মৃত্যুরই নামান্তর । তাই জন্মগ্রহনের পর থেকে যারা কর্মের মহোৎসবে যোগদান করে তাদের মধ্যেই জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পায় । অন্যদিকে যারা নিরালা-নির্ভৃতে অকর্মন্য জীবন যাপন করে তাদের মধ্যে মৃত্যুর লক্ষণই প্রকাশ পায় । এভাবে বেঁচে থেকে যাদের জীবনবসান হয় মানুষ তাদের স্মরণে রাখে না । কেননা মানুষের বৃহৎ কর্মযজ্ঞে এদের কোন অবদান নেই । আর যারা অমোঘ মৃত্যুর কথা ভেবে সংক্ষিপ্ত জীবন পরিসরে মানব কল্যাণ অবদান রেখে যেতে পারে , মানুষ তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । মৃত্যু তাদের কেড়ে নিয়ে যায় বটে কিন্তু কর্ম তাকে বাঁচিয়ে রাখে । মূলত কর্মের দ্বারাই সে অমর হয়ে থাকে । জীবন বাবু আমরা তোমাকে ভুলবো না । তুমি বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে অনন্তকাল ।