ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, আইন-শৃংখলা

 

আমার মনে হচ্ছে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জঙ্গীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ।এই জঙ্গিরা বিদেশীদের টাকায় লিপ্ত হয়েছে নিরীহ বাঙালী হত্যায়। কে বোঝাবে এই দিকভ্রম জঙ্গীদের? তবুও বলি । স্বদেশ অর্থ নিজের দেশ , আপনার জন্মভূমি ।আর এই জন্মভূমির প্রতি যে ভালোবাসা সেটাই স্বদেশপ্রেম । যে ব্যক্তি যেদেশে জন্মগ্রহন করে বড় হয় সে দেশ ঐ ব্যক্তির জন্মভূমি। তার স্বদেশ ।প্রত্যেক দেশে সমস্ত অধিবাসী মিলে একটি জাতি গঠিত হয় । আমরা বাংলাদেশের অধিবাসী । জাতি হিসাবে আমাদের পরিচয়- বাংলাদেশী । জননী ও জন্মভূমি হেন একই সত্ত্বার দু’টি প্রকাশ । মায়ের দেহের রস- রক্ত দিয়ে সন্তানের দেহ, প্রাণ গড়ে ওঠে ; মায়ের স্নেহ যত্নে লালিত-পালিত হয়ে আস্তে আস্তে সে বড় হয় । জন্মভূমিও তেমনি , শিশুর জন্মক্ষণ হতে তাকে আলো দিয়ে , বায়ু দিয়ে , খাবার দিয়ে , পানীয় দিয়ে তাঁর প্রাণ বাঁচায় , দেহ বর্ধিত করে । মায়ের কোলে যে স্নেহের সন্তান সে-ই জন্মভূমির বক্ষে আদরের ধন । মা আর জন্মভূমিতে প্রভেদ নেই । এইজন্য জন্মভূমিকে বলা হয় দেশমাতৃকা । দেশবাসী তাঁর সন্তান । জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। জন্মভূমিকে সেবা করা সকল দেশবাসীরই একান্ত কর্তব্য । যা অভিজিৎ করছিলেন । মুক্তমনা ব্লগে লিখনির মাধ্যমে উনার সেবার লক্ষ্য ছিলো দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ,দেশের সম্পদ বৃদ্ধি ও দেশবাসীর সুখ- সমৃদ্ধ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা । সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কারণে আমাদের দেশবাসীর মধ্যে একতাবদ্ধতার অভাব চলছে । যে কারণে উত্থান এই জঙ্গীদের ।

জঙ্গীরা জানে দেশবাসীর মধ্যে একতা না থাকলে তাদের আক্রমণ হতে দেশকে রক্ষা করা যায় না ; দেশের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাঘাত ঘটে , দেশে অভাব , অশান্তি দেখা দেয় । সুতরাং আমাদের উচিত দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা । হে অভিজিৎ আমরা জানি দেশপ্রেমিক সর্ব দেশে সর্বকালে শ্রদ্ধা পেয়ে থাকেন । হিন্দু ধর্মে রামায়ণের রাবন-পুত্র ইন্দ্রজিৎ ছিলেন এমনি একজন স্বদেশ -প্রেমিক । লক্ষ্য ছিলো তার জন্মভূমি , তার স্বদেশ । রামচন্দ্র লঙ্কা আক্রমণ করেছেন , লঙ্কার স্বাধীনতা হরণ করতে এসেছেন তিনি । ইন্দ্রজিৎ এগিয়ে এলেন । দেশের স্বাধীনতা তাকে রক্ষা করতেই হবে । সীতাকে হরণ করে পিতা রাবণ যতই অন্যায় করে থাকুক না কেনো, তাই বলে বিদেশী আক্রমণকারীকে সমর্থন করা যায় না । গুণবান বিদেশী  নির্গুণ দেশবাসী অপেক্ষা ভাল । যার সাথে প্রতিক্ষণ আমরা সুখ- দু:খ ভোগ করে থাকি । তাদের চেয়ে বিদেশী কোন ক্রমেই শ্রেষ্ঠ হতে পানে না , বিদেশী আপন হতে পারে না । রাবণের ভাই বিভীষণ বিদেশী রামচন্দ্রের পক্ষ অবলম্বন করে তার দাসত্ব স্বীকার করেছিলেন । এমন বিদ্রোহীকে সবাই নিন্দা করে । দেশপ্রেমিক ইন্দ্রজৎও(অভিজিৎ) বিভীষণকে (বিদেশীদের অর্থে পরিচালিত জঙ্গি যারা হত্যাকারী ) তিরস্কার করেছিলো ।তার সে তিরস্কার বাক্যগুলো দেশভক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে । এই বিভীষনের চক্রান্তেই ইন্দ্রজিৎ লক্ষণের হাতে নিরস্ত্র অবস্থায় প্রাণ হারান । এতে লক্ষণের বীরত্ব বাড়েনি । অপরদিকে ইন্দ্রজিৎ স্বদেশ প্রেমের মহিমায় অমর হয়ে রয়েছেন ।