ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 
polash

ময়মনসিংহে মুক্তাগাছায় পলাশ গাছ অত্বিত্ব সংকটে । নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেই । পুরনো গাছগুলিও সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে বিনষ্ট হচ্ছে । গোটা পৌর এলাকা ঘুরে মাত্র ৩টি গাছ দেখা গেছে । লক্ষীখোলার শিমূল জানান, স্বরস্বতী পূজা এলে তাদের গাছের উপর নির্ভর করে স্থানীয় হিন্দুরা । কালিবাড়ি পুকুর পাড়ের প্রাচীন গাছটি হেলে পড়েছে । যে কোন সময় এটি চিরদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যেতে পারে । উপজেলায় টিকে থাকা পশাল গাছগুলি সংরক্ষণের দাবী পরিবেশবাদীদের ।জানা যায়, পলাশ বসন্তের প্রতীক। রঙভরা বসন্তে পলাশের বিশাল দখলদারিত্ব। কবিগুরুর ভাষায়_ ‘ফাগুনে ফুটলো পলাশ।’ তিনি তার ষোলটি ভিন্ন ভিন্ন কবিতায় বারবার পলাশ বন্দনায় মেতেছেন। পলাশ ফুটলেই বোঝা যায় ফাগুন এসেছে, বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। আমাদের বসন্তদিনে পলাশ ফুল অনিবার্য। টিয়া পাখির ঠোঁটের সঙ্গে পলাশ ফুলের দারুণ মিল। সে জন্যই বুঝি পলাশ গাছে টিয়ার মেলা। আর একই কারণে পলাশের প্রচলিত ইংরেজি নাম প্যারোট ট্রি। আবার পলাশ দেখতে অনেকটা বক ফুলের মতো। সবকিছু মিলিয়ে পলাশ ফুল অসাধারণ। কিন্তু ফুলে গন্ধ নেই!

পলাশ মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষ। শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়। বসন্তে গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফুল আগুন লাল। হলুদ ও লালচে কমলা রঙা পলাশ ফুলও আমরা দেখে থাকি। বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী, যার মানে হচ্ছে তিন পত্রকে একটি পাতা। পাতা দেখতে মান্দারের মতো কিন্তু আকারে বড়। অর্থাৎ পলাশের পাতা যেন মান্দারের বড় ভাই! হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের মতে, পলাশের গাঢ় সবুজ ত্রিপত্রী হিন্দু দেবতা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক। এক সময় ভারতের মণিপুরে পলাশ ফুলের টিস্যু হোলির রঙ তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। পলাশের ফুল আর কাঠের সঙ্গে ভারতের মেইটেই সম্প্রদায়ের দীর্ঘ সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে। এক সময় মেইটেই সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য মারা গেলে তার শব পলাশ ফুল ও সে গাছের কাঠ দিয়ে দাহ করা হতো। আবার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কেউ কেউ মনে করেন পলাশ গাছের নিচে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। সংস্কৃতিতে পলাশ হচ্ছে কিংসুক। বাংলা ও হিন্দি নাম পলাশ। মণিপুরি ভাষায় পলাশ হচ্ছে পাঙ গোঙ। আদি নিবাস ভারত উপমহাদেশ।