ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 


সমষ্টিগতভাবে কিছুসংখ্যক দেবতা আছেন । যুগ্ন দেবতা- যথা মিত্রাবরুণ , দ্যাবাপৃথিবী , ইন্দ্রাগ্নি, অশ্বিনীদ্বয় , ইন্দ্রাবরুণ । বহুসংখ্যক দেবতা- মরুৎগণ , আদিত্যগণ, রুদ্রগণ, বসুগণ । আরেক শ্রেণীর দেবতা , যারা পূর্বে মানুষ ছিলেন , মৃত্যুর পর দেবত্ব পেয়েছেন । ঋভূগণ পূর্বে মানুষ ছিলেন পূণ্য করে দেবতা হয়েছেন । অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বস্তু দেবতা হয়েছেন । যথা – ঝড়, বৃষ্টি, নদী, পর্বত, বজ্র, গো, অশ্ব, পক্ষী কুশ , ঘৃত, প্রস্তর প্রভৃতি । তন্ত্র শাস্ত্রে বহু শক্তি দেবীর কথা আছে । অঞ্চল ভেদে বা দেশ বিশেষে হিন্দুরের দেবদেবী বিশেষভাবে পূজিত হন । আমরা বাঙ্গালী হিন্দুরা বহু দেবদেবীর পূজা করে থাকি । দুর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, বিষ্ণু প্রভৃতি বাঙ্গালীদের বিশেষ দেবদেবী । বাঙ্গালী হিন্দুর শ্রেষ্ঠ উৎসব হল পুরাণ মতে দুর্গা পূজা । শরৎ কালে মহাসমারোহে দুর্গা পূজা হয় । তাছাড়া আছে কালী, গঙ্গা,সরস্বতী, লক্ষী, নারায়ণ , কার্তিক, গনেশ, বিশ্বকর্মা, শিব প্রভৃতির পূজা । দুর্গাদেবী মহাশক্তির আধার, তিনি মাতৃরূপিণী । তিনি ধর্ম , অর্থ , কাম, মোক্ষ প্রদান করেন । কালীদেবী বিপদ- নাশিনী ও ব্যাধিনাশিনী মহাকালরূপী দেবী । বড় বড় বাঙালী সাধক যথা রামকৃষ্ণ , রামপ্রসাদ প্রভৃতি কালীর সাধনা দ্বারা জগতের কল্যাণ সাধন করেছেন । সরস্বতী দেবী বিদ্যা, জ্ঞান , বুদ্ধি ও কলা বিদ্যা দান করে থাকেন । শীতঋতুর শেষে বসন্তের আরম্ভে বিদ্যার্থীরা সরস্বতীর পূজা করে । লক্ষী দেবী ধন সম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবী । সবাই লক্ষী পূজা করতে পারে । শরৎকালে কোজাগরী লক্ষী পূজা বাঙালী হিন্দুদের একটি শ্রেষ্ঠ উৎসব ।

নারায়ণ সর্বদেবময় , ইনি সকলের আশ্রয়স্বরূপ, ইহ ও পরকালেল কল্যাণকারী । শিব হলেন মঙ্গলময় দেবতা । ইনি জ্ঞান , আয়ু প্রদানকারী ও ভয়নাশক এবং বরদাতা । ইনি অল্পে তুষ্ট হন বলে আশুতোষ । গনেশকে সকল দেবতা পূজার আগে পূজা করতে হয় । ইনি বিঘ্ননাশক । গনেশ নিত্য ও নৈমিত্তিক উভয়ভাবেই পূজ্য । কার্তিক দেব সেনাপতি, পুত্রদায়ক ও বীরত্বের প্রতীক । বিশ্বকর্মা কারুশিল্পের দেবতা । বাঙালীদের লৌকিক দেবদেবীর সংখ্যাও কম নয় । লৌকিক দেবদেবীরাও ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক রুপেই পূজিত হয়ে থাকেন । মনসা দেবী বর্ষাপ্রধান দেশে পূজিত হন। মনসা সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী । মনসা পূজা করলে সাপের ভয় থাকে না । শীতলা দেবী বসন্ত রোগের শান্তিদায়িনী দেবী । ইনি বসন্ত রোগ , জ্বরাদিতাপ নাশ করেন । এছাড়া আছে সুবচনী মঙ্গলচন্ডী , বিপদনাশিনী, বিপত্তারিণী প্রভৃতি বহু লৌকিক দেবী । লৌকিক দেবীরা মহামায়ার প্রতীক রূপে বাঙালী হিন্দুদের ঘরে ঘরে পূজিত হন । সত্যনারায়ণ . আতিদ্যাদি নব-গ্রহ প্রভৃতি অমঙ্গল দূর করেন । তাই এরা বিশেষভাবে পূজিত হন । জ্যোতিষ শাস্ত্রে নবগ্রহের অসীম প্রভাবের কথা বলা হয়েছে । তাই শাস্ত্রোক্ত বিধানে গ্রহস্বস্ত্যয়ন করা হয়ে থাকে । এছাড়া সর্প, গাছপালা ও নানা জীবজন্তুকেও দেবতা জ্ঞানে পূজা করা হয় । গীতায়ও দেব পূজা বিষয়ে উপদেশ রয়েছে । যজ্ঞ দ্বারা দেবতাকে কে তুষ্ট করলে তারা মঙ্গল সাধন করবেন । যজ্ঞে তুষ্ট হয়ে দেবতারা মানুষকে ভোগ্যবস্তু প্রদান করে থাকে । যিনি অতিথি দেবতাদিগকে প্রদান করে অবিশিষ্ট অন্নাদি খান তিনি পাপমুক্ত হন । ইত্যাদি ।

***

ভগবান ঈশ্বর দেবদেবী হিন্দু (১)