ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব । মানুষের জ্ঞান , বুদ্ধি , বিবেক তাকে মানুষ বলে পরিচিত করেছে । তাই মানুষের স্বভাব হল বেঁচে থাকা ও উন্নতি সাধন করা । শুধু ইহকালের নয় পরকালের উন্নতির কথাও মানুষ চিন্তা করে । অতএব সার্বিক উন্নতির জন্য ধর্ম-ই সহায়তা করে থাকে । ধর্মই মানুষের একমাত্র বন্ধু । হিন্দু শাস্ত্রে আছে —— এক এব সুহৃদ্ধর্মো নিধনেপ্যনুযাতি যঃ । শরীরেণ সমং নাশং সর্বমন্যন্তু গচ্ছতি ।। ……..ধর্মই একমাত্র বন্ধু যে মানুষের মৃত্যুর পরও সাথে যায় , আর অন্যান্য সব কিছুই দেহনাশের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায় । তবেই দেখা যায়- ‘ধারণাদ্ ধর্ম’ এ শাস্ত্র বাক্যের মতে , যাকে ধারণ করলে অথবা যে ধারণ মানুষের সকল উন্নতি , কল্যাণ লাভ হয় তারই নাম ধর্ম । হিন্দুদের ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম । ‘ধর্মমূলং হি ভগবান্ সর্ব বেদময়ো হরি: ।’ — ধর্মের মূল হচ্ছে ভগবান হরি । তিনি সর্ববেদময় । সকল বেদে ভগবানেরই কথা উল্লেখ করা হয়েছে । অতএব ধর্মলাভ করতে হলে চাই সর্বান্তঃকরণে ধর্মে তথা ভগবানে বিশ্বাস স্থাপন । ‘বিশ্বাসে পাইবে কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর ।’ সরল বিশ্বাসেই হরি মিলে । সত্য আবিস্কারের জন্য সাধনার প্রয়োজন । কিন্তু বিশ্বাস দূঢ় না হলে সাধনার সিদ্ধিলাভ হয় না । অবিশ্বাসে সব বিফল হয় । বিশ্বাস লাভের জন্য শাস্ত্র অনুসরণ ও অনুশীলন করতে হবে । সর্বশাস্ত্রের আধার হল বেদ । অতএব বেদ- বিধিতে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস স্থাপন প্রথমে কর্তব্য । শ্রীভগবান বলেছেন ।— যঃ শাস্ত্র বিধিমুৎসৃজ্য বর্ত্ততে কামকারতঃ । ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্ ।। —-যে লোক শাস্ত্র না মেনে কামনার বশে যা খুশী তা করে সে কোন কাজেই সফল হয় না , তার সুখ হয় না কিংবা ঐ স্বেচ্ছাচারীর গতিও ভালো হয় না । তাই মানতে হবে বেদ , বিশ্বাস করতে হবে ধর্মকে মনে প্রাণে । বেদপ্রণিহিতো ধর্মোহ্যধর্মস্তদ্ বিপর্য্যয়ঃ । — বেদ বিহিত কাজের নামই ধর্ম , বেদবিধির বিপরীতে কর্ম হল অধর্ম । কণাদ প্রতি মহষি বলেছেন যে ধর্ম নির্ণয় ব্যাপারে বেদবাক্যই প্রামাণ্য ও মান্য । বেদ বিধি না মানলে অধর্ম বা পাপ হয় । পাপের পাল্লায় পড়লে আর রক্ষা নেই । সব বিনাশ হয় ।