ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 
joyramkura

ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য সেবায়।ময়মনসিংহে এক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ।ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা শহরের তিন কিলোমিটার অদূরে প্রতিষ্ঠিত একটি হাসপাতাল । নাম জিবিসি খ্রিষ্টিয়ান হেল্থ প্রজেক্ট জয়রামকুরা হাসপাতাল । প্রতিষ্ঠানটি এখন মানব সেবায় নিবেদিত হিসাবে প্রশংসিত । খুবই সুন্দর পরিবেশে এটির অবস্থান ।

অল্পমূল্যে এতে রোগীদের সেবাদান করা বলে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের আশার আলো। জানা যায়, এখানে প্রত্যেক নতুন রোগীর নিকট থেকে টিকিট বাবদ মাত্র ৪০ ও পুরান রোগীর নিকট থেকে ২০ টাকা নেয়া হয়। ইসিজি বাবদ ২০০, এক্স-রে ২০০, আল্ট্রাসনোগ্রাম ৫০০ ও ডেলিভারী রোগীর সিজার বাবদ ৫০০০ টাকা নেয়া হয়। এখানে কোন ধোঁকা নেই। সিনিয়র একাউন্ট্যান্ট নারায়ণ নন্দী বলেন, রোগীদের নিকট থেকে যে ফি নেয়া হচ্ছে তা নিতান্ত কম, তবে কারো কারো নিকট থেকে একদম ফি নেয়া হয় না। নির্বাহী পরিচালক ডা. দীপক সাংমা বলেন, এখানে মেডিসিন, গাইনী, অব্স, অর্থোপেডিক্স, প্লাস্টিক সার্জারী ইত্যাদি প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা সুলভে প্রদান করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, ভিডিও এন্ডোসকপি, এক্স-রে, লাপারস্কপি ইন্সট্রোমেন্ট ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে।

২০১৪ সনে এখানে মোট ৬৫৩৬২ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে এখানে তুলনামূলক যথেষ্ট কম রাখা হয় বলে কুতিকুড়ার জিয়াউর রহমান জানান। তিনি বলেন, এখানে কোন দালাল নেই। ময়মনসিংহে দালালের খপ্পরে পড়ে আমাদের মত সাধারণ মানুষের পক্ষে ভাল ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। ফুলপুর ধনারভিটার সাদেকুর রহমান বলেন, এখানে ডাক্তার কম থাকলেও তারা খুব এ্যাকটিভ। এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ নার্স রয়েছে। রোগীর প্রয়োজনে হাতের কাছেই সবকিছু পাওয়া যায়। এমনকি হাসপাতাল সংলগ্ন দোকানদারগুলোও ডাকাত নয়। সব সেবাই তারা স্বল্প মূল্যে দিয়ে থাকেন।

আকনপাড়ার একজন জানান, এখানে ডাক্তারের ফিও কম। একেবারে গৈগেরামেও প্রসংশিত ডাক্তার রূথ লুসি দারিংয়ের ভিজিট মাত্র ২০০ টাকা। এর চেয়ে মানে অনেক কম বর্তমানে তেমন একজন ডাক্তারের ভিজিট রয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এমন অনেক সুবিধা এখানে রয়েছে যা অন্যত্র নেই। ফলে দিন দিন এতে রোগীর ভীড় বাড়ছে। ৫০ বেড বিশিষ্ট এ হাসপাতালে ১০০-র বেশি রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে। ব্যবহার করতে হচ্ছে এক্স্ট্রা মেট্রেস। ম্যাট্রন সুখিলা চিসিম বলেন, এ হাসপাতাল মানুষের সেবায় উৎসর্গীকৃত। এখানে ২০১৪ ইং সনে আউট ডোরে ২৮৭৪৬ জন ইনডোরে ২৯৪৬১ জন ও ইমারজেন্সিতে ৭১৫৫ জনসহ মোট ৬৫,৩৬২ জন রোগীকে স্বল্পমূল্যে সেবাদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্য হাসপাতালে সিজার করাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগে। অথচ এখানে তা মাত্র ৫ হাজার টাকায় করা যায়। এ হাসপাতালে সেবার মান ভাল বলেই শেরপুর, ঝিনাইগাতী, মধুটিলা, গজনী, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এখানে রোগীরা এসে ভীড় করে থাকেন। প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। এখানে ৪জন পুরুষ ও ৫জন মহিলাসহ মোট ৯জন প্রথম শ্রেণীর অফিসার রয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণীর অফিসার ২৫জন, ৩য় শ্রেণীর ১৮জন এবং চতুর্থ শ্রেণীর পুরুষ ও মহিলা ২৫জনসহ মোট ৭৭জন লোক কর্মরত রয়েছেন। হাসপাতালটিতে ৩০ জন ট্রেনিং প্রাপ্ত নার্স রয়েছেন। এছাড়া ৩বছরের কোর্স ডিপ্লোমা নার্সিং এন্ড সায়েন্স মিডওয়াইফারীতে স্টুডেন্ট রয়েছেন ৮৯ জন ও ৩০ জন করে ২ ব্যাচে ব্র্যাক স্টুডেন্ট রয়েছেন ৬০ জন।

এখানে গাইনি কনসালট্যান্ট ২জন, সার্জিকেল অফিসার ২জন ও আরও ১জনসহ মোট ৫জন ডাক্তার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাপানের ডা. মেগুমী কুন্ডু, ডা. তাপস রেমা, ডা. রূথ লুসি দারিং, ডা. ক্রিস্টিনা মৌরি সরকারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক পদে রয়েছেন দীপক সাংমা। উপ-নির্বাহী পরিচালক মিস্টার তরুণ দারিং ও মেডিকেল সুপার পদে প্রশংসার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. তাপস রেমা।

চলতি বছরের জানুয়ারীতে সিজার হয়েছে ১১৩টি ও নরমালে বাচ্চা হয়েছে ১১১টি এবং ফেব্রুয়ারীর ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৬২ জন শিশুর ডেলিভারী হয়েছে। যা অন্য যে কোন হাসপাতালের চেয়ে তিনগুণের বেশি। তবে হাসপাতাল সম্বন্ধে কারো কারো রয়েছে ভিন্ন মতও। হালুয়াঘাট বাজারের বাসিন্দারা জানান, এখানে সেবার মান ভাল। তবে পরিমাণ মত ডাক্তার নেই। ডাক্তারের সংখ্যা আরও বাড়ালে ভাল হত। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডাক্তার মেলে না। কেউ কেউ বলছেন, এখানে গারো ছাড়া অন্য রোগীদের গুরুত্ব দেয়া হয় না।

এ বিষয়ে মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. তাপস রেমা বলেন, জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সুন্দর স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখানে কাউকে অবহেলার চোখে দেখা হয় না। নির্বাহী পরিচালক ডা. দীপক সাংমা বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় প্রমোদ মানকিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদেরকে প্রয়োজনে দেশি বিদেশী দাতাদের আরও সহযোগিতা নিয়ে হলেও এ হাসপাতালের সার্বিক মান উন্নয়নে যা কিছু করতে হয় সবই করা হবে।
হাসপাতালটি এখন বাংলাদেশের অনুকরণীয় অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত ।