ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

vagoban
‘নূতন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী ।

প্রাণ কর মহা প্রাণ আন অমৃত বাণী ।’

শ্রীভগবান বৈকুন্ঠে আছেন । তিনি সকলেল নিয়ন্তা । কিন্তু সময় বিশেষে ও জগতের প্রয়োজনে ভগবান মানুষরূপে অধবা কোনও জীবরূপে পৃথিবীতে আসেন । এই হল ভগবানের অবতার হওয়া ।

শ্রী ভগবান গীতায় বলেছেন , ‘ আমার জন্ম- মৃত্যু নেই , আমি সকল জীবের মালিক । তাই আমি ধর্মাধর্মের অধীন না । প্রাণিগণের যে জন্ম- মৃত্যু সাধারণভাবে হয়, আমার আবির্ভাব সেভাবে হয় না ।’ প্রশ্ন হল, কিরূপে হয় ? উত্তর ভগবান নিজেই দিয়েছেন ।

প্রকৃতিং স্বামধিষ্টায় সম্ভবাম্যাতœমায়য়া ।
‘ আমার তিন গুণময় প্রকৃতিতে বশীভূত করে ইচ্ছার অদীন স্বাসন্ত্র্য ও ব্যক্তিত্ব সরিয়ে দিয়ে , আমার ইচ্ছার অধীন করে , আপন মায়া বলে আমি নিজেই আবির্ভূত হই ।’
ভগবান এ ভাবেই দেহধারী হন । তবেই দেখা যায় অবতার দেহ ভগবানের মায়া- শরীর ।
অবতারের উদ্দেশ্য হল (ক) দু®কৃতিকারীদের বিনাশ (খ) সাধুদিগের ত্রাণ এবং (গ) ধর্ম সংস্থাপন । যখনই ধর্ম লোপ হতে থাকে , পৃথিবী অধর্ম ও পাপে পূর্ণ হয়ে যায় , অসুরেরা সৎলোকের উপর অত্যাচার করতে থাকে , তখনই ভগবান এসব বন্ধ করার ও পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য দেহধারীরূপে পৃথিবীতে আসেন । এভাবেই তিনি অবতার হন ।

শ্রীশ্রী চন্ডীতেও দেবী বলেছেন—-
ইথং যদা যদা বাঁধা দানবোত্থা ভবিষ্যতি ।
তদা তদাবতীর্য্যাহঙ করিষ্যাম্যরিসংক্ষয়ম্ ।।
অর্থ -যখনই দানবদের অত্যাচার আরম্ভ হবে তখনই আমি অবতীর্ন হয়ে শত্র“- ক্ষয় করব ।
গীতায়ও এই একই সূর বাজে-
যদা যদাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।
অভ্যূথনমধর্মস্য তদাত্মানসং সৃজাম্যহম্ ।।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দু®কৃতাম্ ।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে ।।
অর্থ -‘হে অর্জুন , যখনই ধর্মের গ্লানি আসে, অধর্মের উত্থান হয়, তখনই আমি নিজেকে সৃষ্টি করি । আর সাধুদিগের রক্ষার জন্য , দুষ্টের বিনাশের জন্য ও ধর্ম স্থাপন করার জন্য যুগে যুগে আবির্ভূত হই ।’
পূরাণের মতে ভগবান্ বিষ্ণু দশটি অবতারে প্রকাশ পেয়েছেন । মৎস্য , কূর্ম, বরাহ, বামন, নরসিংহ , পরশুরাম, শ্রীরামচন্দ্র, শ্রীকৃষ্ণ, (কারো মতে বলদেব) বুদ্ধ ও কল্কি – এই দশ অবতার ।
(অবশ্য শ্রীমদ্ভাগবতের মতে অবতার অসংখ্য।)
পুর্ববর্তী লেখা ১.২.৩ এর লিংক
(1) http://blog.bdnews24.com/manoneshdas/165003
(2) http://blog.bdnews24.com/manoneshdas/165008
(3)http://blog.bdnews24.com/manoneshdas/165168