ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

book
ভগবানের নাম সব সময়ই স্মরণীয় ।
ভগবানের নামে মানুষের সকল দুঃখ নাশ হয় , মনে শান্তি আসে । তাই ধার্মিক ব্যক্তিরা ঈশ্বরের নাম নেয়ার রীতি ও ব্যবস্থা প্রচলন করেছেন ।
এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে ভগবানের নাম করলে ভালো হয় ? নাম অনেক ভাবেই নেয়া যেতে পারে তবে এমন একটা পথ অনুসরণ করতে হবে যাতে ঈশ্বরের নামের মহিমা প্রচার হয় । অতএব ঈশ্বরের নাম বা নাম সম্বন্ধীয় বিষয় আবৃত্তি করাই হল উত্তম কাজ ।
ওঁ তদ্বিষ্ণো পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্ ।
অর্থ সেই বিষ্ণুর পরম চরণ , সেই জ্ঞানবান হেরেন নিত্য মন মাঝে যথা হেরে নয়ান , বস্তু যে সব বিস্তৃতি নভে রহে শয়ান ।

সরলার্থ — জনগণ আকাশে যেরূপ সর্বপ্রকাশময় সূর্যকে দেখতে পায় , জ্ঞানিগণ সেরূপ বিষ্ণুর সেই প্রসিদ্ধ শ্রেষ্ঠপদ সর্বদা দেখতে পান ।

শাস্ত্রে আছে – আবৃত্তিঃ সর্বশাস্ত্রানাং বোধাদপি গরীয়সী – অর্থাৎ বুঝার চেয়েও আবৃত্তি করা অনেক ভাল । কোনও বিষয় যার যতটুকু বুঝার ক্ষমতা আছে, সে ততটুকুই বুঝবে ।
কিন্তু আবৃত্তি করলে বিষয়টা তো বুঝার পথ হয়ই উপরন্তু প্রচারেরও পথ হয় । আবৃত্তি করলে ধ্বনি ও শব্দের সৃস্টি হয়। সেই শব্দ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । এ ভাবে শব্দ ব্রহ্ম ও মন্ত্র -ব্রহ্ম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, ফলে স্থাবর , জঙ্গম ও অন্তরীক্ষের শান্তি, স্বস্তি ও উন্নতি হয় । কল্যাণ হয় সকলের । তাই মহর্সি ও জৈমিনী বলেন যে, অর্থবুঝা না গেলেও ঠিক ঠিক উচ্চারণে মন্ত্র পাঠ করলে পাঠক পবিত্র হন ।
হিন্দুধর্মের শাস্ত্রগ্রন্থ অনেক । বেদ, পুরাণ, উপনিষদ, চন্ডী, গীতা প্রভৃতি প্রধান ।

বৈদিক আবৃত্তি অতিন প্রাচীন । ঋগে¦দই মানব সমাজের প্রাচীনতম গ্রন্থ । বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান । বেদ নিত্য ও অপৌরুষেয় । বেদ ভগবানের বাণী । মুনি ঋষিরা সেই বাণী শুনেছেন । বেদের চার ভাগ- ঋক্ , সাম, যজুঃ ও অথর্ব ।

শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ । গীতা একাধারে সকল ধর্ম বিষয়ের সমন্বয় বিশেষ ।