ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

aj
ওর নাম অজিতানন্দ দাস শিব । জন্মসূত্রে ও ভারতের নাগরিক । আমার নাম মনোনেশ দাস । জন্মসূত্রে আমি বাংলাদেশের নাগরিক । জন্মসূত্রে আমরা দুই দেশের নাগরিক হলেও আমাদের ধমনীতে বয়ে চলা রক্ত একটাই ।
ওর আর আমার পিতামহ একজনই । তিনি স্বর্গীয় রমেশ দাস । আমার বাবা স্বর্গীয় ভবেশ দাস এবং অজিতানন্দের বাবা স্বর্গীয় অমরেশ দাস দুজনই স্বগীয় সৌদামনী দাসের গর্ভজাত সন্তান ।
আমাদের পিতামহ রমেশ দাস ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন ।পিতার আদর্শে বেড়ে উঠা আমার রাঙ্গা জেঠা অমরেশ দাস এবং বাবা ভবেশ দাস দুজনই পাকিস্তানী আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের ঘোর বিরোধী ছিলেন ।
এই দুই পাকিস্তানী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন আমার বাবা জেঠা ।তাদের জনসভায় ঢিল ছোঁড়া । তাদের অনুসারীদের উপর হামলা । তাদের নির্যাতন- নিপীড়নের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ছাড়তে হয় বাবা জেঠার ।
বাবা জেঠাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানী বাহিনী আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে করে । ওরা আমার বড় জেঠাকে শাশায় বল, তোর ছোট ভাইয়েরা কোথায় । আমি জানিনা । হায়েনার দল অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় জেঠা পরেশ দাসকে । এরপর আয়মন গাঙ্গের পাড়ে উনাকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানীরা ।
এখন খবর শুনে আমাদের বাড়িতে থাকা বড় জেঠিমা পিত্রালয়ে চলে যান । শূন্য ভিটা ছাড়তে নারাজ আমার কর্তামা (দাদী) সৌদামনী দাস ।তার বক্তব্য ছিলো আমার এক পুত্র শহীদ হয়েছে , বাকী পুত্ররা দেশ ছেড়েছে । আমার আর হারানোর কিছু নেই ।
কর্তামার এ কথায় মোটেও গলেনি পাকিস্তানীরা । ছেলেদের সন্ধান না দেয়ায় তারা কর্তামার মাথার চুল কেটে দেয়, মসজিদে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক নামাজ পড়ায় , গরুর মাংস মুখে বুজে দেয়।
মায়ের দুখে: ব্যাথিত আমার বাবা ভারতে মন টেকাতে পারেননি । মায়ের আর্তনাদের চিৎসার বাজে তার কানে । দেশে ফিরে আসেন বাবা । থেকে যান রাঙ্গা জেঠা অমরেশ দাস ।
রাঙ্গা জেঠা অমরেশ দাস হয়ে যান ভারতের নাগরিক । সেখানে বিয়ে স্বাদী করে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান ।

আমার জেঠার ছোট ছেলে অজিতানন্দ । আমার জেঠতো ভাই ।একবার ও বাংলাদেশে এসেছিলো ।ছোটবেলায় ওর মা আমার জেঠির সাথে ।আমারও কয়েকবার ভারতে ওদের ওখানে বেড়াতে যাওয়া হয়েছে ।

আমাদের খোলা চোখের দেখা না হলেও অজিতানন্দের সাথে ফেইসবুকে আলাপন হয় প্রায়শই । ক্রিকেট খেলায় আমরা কট্ররপন্থি। ও ভারতের সাপোর্টার। আমি বাংলাদেশের । খেলার সমর্থনেই যা অমিল । আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, খেলাধূলা প্রায় একই ।