ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

আজ ইংরেজি মাসের ১লা এপ্রিল। এপ্রিল ফুল ডে। প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বব্যাপী অল ফুল ডে উদ্যাপন করা হয় । বিশ্বের বহু দেশের মানুষ এই দিনে কাওকে বোকা বানিয়ে মজা উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশিরা প্রতিদিনই এই দিনটি উদ্যাপন করে থাকি।

যেমন, কেনা কাটা। আমরা দৈনন্দিন প্রয়োজনে প্রতিদিনই কিছু না কিছু কিনে থাকি। তন্মধ্যে চাল- ডাল, মাছ- মাংস, শাক-সবজি , ইলেকট্রিক- ইলেকট্রনিক্সসহ আরো অনেক কিছু। যা বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না । এসমস্ত পণ্য একদামে বিক্রি হয় এমন দোকানের সংখ্যা খুবই কম । অধিকাংশ দোকানেই আমাদের পণ্য কিনতে হয় দর- দাম কষে । বিক্রেতার চাওয়া (হাঁকা) উৎভট দামে কখনও বিব্রত বোধ করি আবার কখনও প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উত্তীরণে ভেবে- চিন্তে সঠিক ক্রয় মূল্য মনে করে সঠিক দাম দিয়ে ক্রয় করি বলে মনে করি ।

পণ্য কেনার পর বাড়ি নিয়ে আসলে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফুল (বোকা) বনে যাই । বলা হয়, ঠকে কিনেছি । আমাকে বোকা বানানো হয়েছে । আমাদের দেশে এমন কি কোন পরিবার আছেন? যারা এই বিষয়টির বা ফুল বা বোকা হওয়ার মুখোমুখি হননি বা হবেন না । মনে হয় এ থেকে উত্তীরণের পথ আমাদের রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে । এর জন্য দায়ী কে বা কারা তা আমার জানা নেই ।

পণ্য বিক্রেতাদের কাছে জানতে চেষ্টা করেছি , এমন উদ্ভট বা অতিরিক্ত দাম চাওয়ার কারণ কি ? বিক্রেতা জানান, আমাদেরকেও এমন পরিস্থিতির (দর-কষাকষি) মোকাবেলা করে ক্রয় করতে হয় । এনিয়ে একটি প্রবাদও আমাদের দেশে প্রচলিত আছে । তা হচ্ছে, কিনে পর্তা করতে না পারলে বিক্রি করে খুব বেশী মুনাফা বা লাভ পাওয়া যায় না ।

উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, ফ্রান্সে এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এই শিশু মাছগুলোকে সহজে বোকা বানিয়ে ধরা হয় । সেজন্য তারা ১ এপ্রিল পালন করে এপ্রিলের মাছ । এদিন বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে । অন্যরা দেখে তাকে বোকা বলে।

এটা তো গোপনে বা অজান্তে বোনা বানানো। আমরা প্রকাশ্যে প্রতিদিন জ্ঞাত হয়ে বোকা হই । তাও আবার শিশুরা না আমরা বুড়োরা । এই বোকামি বা ফুল হওয়ার শিকার আমাদের কতকাল হতে হবে তা বলা মুশকিল !