ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা শহরের বাসিন্দাগণ ১৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন থাকলে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়ে যেত। গত বছর ঢাকাসহ সারাদেশে বিদুৎ বিপর্যয় হয়েছিলো। এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয় দেশব্যাপি।

গতকাল শনিবার থেকে আজ রবিবার দুই দিনে টানা ১৯ঘন্টা মুক্তাগাছাসহ তৎসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা থাকেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। আমরা মফস্বলের বাসিন্দা হওয়ার বদৌলতে কারো কাছে এ যেন কোন বিষয়ই না। এমনটাই মনে হচ্ছে আমার। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে কাল বৈশাখবৈশাখীর ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মুক্তাগাছাসহ সংশ্লিষ্ট ৭টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষকে ফোন করা হলে জানানো হয়, আকাশের অবস্থা ভালো হলে সংযোগ দেয়া হবে। সন্ধ্যার পর শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড়। ঝড়ে বিদ্যুতের ৩টি খুঁটি উপড়ে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায়। দীর্ঘ ১৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি আমরা সংশ্লিষ্ট উপজেলাবাসি।

১৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থেকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আমার পরিবারকে। তার কিছু বর্ণনা এই, যখন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় তখন, আমাদের বাসার পানির ট্যাংকিতে আনুমানিক ১০০ লিটার পানি স্টক ছিলো। গতকাল ছিল গ্রহণ, আমাদের প্রথা অনুযায়ী গ্রহণ শেষ হলে পরিহিত কাপড়- চোপড় ধুতে হয় । সেই সাথে স্নান করতে হয়। এগুলি করতে গিয়ে পানির স্টক শেষ। ল্যাপটপে চার্জ শেষ। আইপিএসে চার্জ নেই । মহাসমস্যা নিয়ে আগামীকাল সকালে বিদ্যুৎ পাবো বুকভরা আশায় রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে উঠে আবারো বিদ্যুতের প্রতিক্ষা। গোসল – টয়লেট চেপে গেলাম। পানি সংকটে রান্না বন্ধ। হোটেল থেকে খাবার, দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটার এনে বাচ্চাদের কান্না নিবারণ করলাম।

এই লম্বা সময় আমার মতো ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সকল গ্রাহককেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এতো গেলো ঝড়ের অজুহাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা । এছাড়াও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্রুটি বিচ্যুতি ,সংরক্ষণ, মেরামত, লোডশেডিং এমনো অনেক অজুহাত দেখিয়ে প্রায়শই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে সুবিধা বঞ্চিত করা আমাদের। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও জেলা শহরে এ চিত্র নেই বললেই চলে ।

এখন প্রতিক্ষা করছি, কবে আমরা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও জেলা শহরের বাসিন্দাদের মতো বিদ্যুৎ সুবিধা পাবো? ঢাকা ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা শহরের বাসিন্দারা যেমন মানুষ, আমরাও তেমন মানুষ। ঐখানকার বাসিন্দারা যে হারে বিদ্যুৎ বিল দেন, আমরাও তাই দেই। তাহলে কেন এই বৈষম্য?