ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

muktagacha(mymensingh)19971 (23april)
আজ ২৩ এপ্রিল । আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনী মুক্তাগাছার নিরস্ত্র জনগণের উপর অতর্কিত সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়।

জনপদ মুক্তাগাছার মুক্তিকামী জনতার সকল বাধা অতিক্রম করে পাকবাহিনী জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মুক্তাগাছায় প্রবেশ করে ।

সেদিন শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে জীপ ও ট্রাকের এক বিশাল কনভয় নিয়ে হানাদার বাহিনী দখল করে নেয় মুক্তাগাছা ।

মুক্তাগাছা প্রবেশ করার সময় রাস্তার দু’পাশের জনবসতির উপর পাকবাহিনীর কনভয় থেকে অবিরল গুলিবর্ষণ , লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগে ঘটনো হয় নিরীহ মানুষের জীবন বিসর্জন । বহু তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি পাকিস্তানীরা । বহু মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয় তারা। সূচনা হয় মুক্তাগাছার বুকে বর্বর পাকবাহিনীর দীর্ঘ নয় মাসের ধ্বংসযজ্ঞের । সৃষ্টি হয় অসংখ্য বদ্ধভূমি ।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রয়েছে এমন কয়েক ব্যক্তির সক্রিয় প্রচেষ্টায় সংগৃহীত তালিকা অনুসারে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মুক্তাগাছার শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন : আজগর আলী , আজিজুর, বছির উদ্দিন , খালেক , সাত্তার , নূরুল ওয়াহিদ, কালাম আজাদ, ইয়ার মামুদ , দ্বিজেন্দ্র , ভবতোষ, নরিুজ্জামান, উমেদ, কার্তিক, বাবার আলী, মকবুল, মনির, মহর, মোফাজ্জল, শামসুল, মেহের, সাহার, হযরত, হাসেন, হাতেম আলী । মুক্তিযদ্ধে আরও শহীদ হয়েছেন – মনিরুদ্দীন , পরেশ দাস ( দৈনিক ইত্তেফাক সংবাদদাতা মনোনেশ দাসের জেঠা ) , সুরেন্দ্র, অমিয়া, ব্রজেন্দ্র, বাসুয়া, হরিপদ, সুবোধ, রবীন্দ্র , শ্রীশ, অমর, জমিদার বকুল আচার্য চৌধুরী , ত্রৈলোক্য, মিজরিয়া, নকুল, কুমুদ, কানু, কুমুদ বন বিহারী, ভরত, দীনেশ, নীহার, যতীন্দ্র, দামু, আমেনা, বেগম, হাফিজা, নজীবদ্দিন, হাজেরা, বানেছা, ফিরোজা, ফনীন্দ্র, সুধীর , সুরেন্দ্র, জিনমুন্সী, ইন্দুবালা, কুমার ঠাকুর, জীতেন্দ্র, নারায়ণ, যতীন্দ্র, আিিম্বয়া, রেজিয়া, আসাদ, কিন্দো, মালেকা, খালেতন , রহিমন, হামেদা, ছুমেদ, দিনুরা, সবুরন, জামফত, সুরুজা, জুলেখা, দেলজান, নজরুল, বিবি হাওয়া, সকিনা, নবীরন, ময়না, মোতালেব, রহমত, মানিকজান, হযরত, হাসনা, গজেন্দ্র, সিদ্দিক, অভিমন্যু, অমর, ফনীন্দ্র, আইনউদ্দিন, কাজিমুদ্দিন, সন্তোষ, জগদীশ, জীতেন্দ্র, ফয়েজ, বিনোদ, ভারতী, তোরাব, নারায়ণ, সন্তোষ, আজিজ, দীনদয়াল , দীনেন্দ্র, বীরেন্দ্র, সুরেন্দ্র, বীরেন্দ্র দাস, ডা: অনিল চন্দ্র বণিকসহ আরো অনেকে ।

স্বাধীনতার পর থেকে বহু স্থানে সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহীদদের স্মরনে স্মৃতিচিহ্ন ভাষ্কর্য ও শহীদদের স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে । অবশিষ্ট বদ্ধভূমিও সংরক্ষণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে ।

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী বহুমানুষ হত্যার পর মুক্তাগাছা পাড়াটঙ্গীর আয়মননদীতীরে ময়লাখানায় লাশ ফেলে রাখতো । শহীদদের স্মরণে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ।