ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

ময়মনসিংহে ধান ফলন ভালো দাম কম । জেলার ময়মনসিংহ সদরে, মুক্তাগাছায়, ত্রিশালে, ভালুকায়, ঈশ্বরগঞ্জে, ফুলবাড়ীয়ায়, নান্দাইলে, গৌরীপুরে, হালুয়াঘাটে, তারাকান্দায়, ধোবাউড়ায়, গফরগাঁয়ে এবং ফুলপুরে বোরো ধানের ভাল ফলন হওয়া সত্বেও বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকের মাথায় হাত।

ময়মনসিংহ ফুলপুর দিউ ডিগ্রি কলেজ রোড নিবাসী কৃষক একেএম মোফাজ্জল হক বলেন, ৮ শতাংশের মাপে আমাদের প্রতি কাঠা জমিতে ‘২৮ ধান’ হয়েছে ৫ মণ। বাজার দর অনুযায়ী এর মূল্য ২৮৫০ টাকা। প্রতি কাঠায় খরচ হয়ে গেছে ২৯৯০ টাকা। হাল চাষ করে জমি প্রস্তুত করা বাবদ ২০০ টাকা, বীজ ২০০ টাকা, মেশিন ভাড়া ২০০ টাকা, রোপন করা ৪০০ টাকা, ইউরিয়া সার ১৬০ টাকা, টিএসপি ২৪০ টাকা, পটাশ ১২০ টাকা, অন্যান্য সার ৩০ টাকা, ডিজেল ২০০ টাকা, কীটনাশক ১২০ টাকা, নিড়ানি ১০০ টাকা, কেটে বাড়িতে আনা ৮০০ টাকা, মাড়াই ১০০ টাকা ও বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে বিক্রি করা বাবদ ১২০ টাকা। কৃষক মোফাজ্জল বলেন, এখন আমাদের থাকে কি ?

কৃষক মাহফুজুর রহমান মামুন জানান, ১০০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করতে তার খরচ হয়েছে মোট ৩৪৪০০ টাকা। জমি প্রস্তুত বাবদ ২৫০০ টাকা, বীজ ২৫০০ টাকা, মেশিন ভাড়া ২৫০০ টাকা, রোপন করা ৪০০০ টাকা, ইউরিয়া সার ২০০০ টাকা, টিএসপি ৩০০০ টাকা, পটাশ ১৪০০ টাকা, অন্যান্য সার ৩০০ টাকা, ডিজেল ২১০০ টাকা, কীটনাশক ২২০০ টাকা, নিড়ানি ১৫০০ টাকা, কেটে বাড়িতে আনা ৮০০০ টাকা, মাড়াই ১২০০ টাকা ও (প্রতি একরে ৬০ মণ ধান) বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে বিক্রি করা বাবদ খরচ ১২০০ টাকা। তিনি ৬০ মণ ধান বিক্রয় করেছেন ৩৪২০০ টাকা।

সরেজমিন গিয়ে আমুয়াকান্দা বাজারের বেশ কয়েকজন ধান্য ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়। তারা ৫৫০ থেকে গড়ে ৫৭০ টাকা দরে ধান ক্রয় করছেন। তারা জানান, ঝরঝরে যেটা সেটার দাম ৫৯০ পর্যন্ত আছে। ধান্য ব্যবসায়ী হাজী দুলাল মিয়া ২৮ ধান প্রতি মণ ৫৪০ থেকে ৫৮০ টাকা, উজ্জ্বল সাহা ৫৫০ থেকে ৫৭৫, নজরুল ইসলাম চুন্নু ৫১০ থেকে ৫৯০ ও ইউসুফ আলী ফকির ৫৫০ থেকে ৫৯০ টাকা দরে চলতি সপ্তাহে ধান ক্রয় করেছেন।

বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের মূল্য গড়ে ৫৭০ টাকা হিসেবে বিক্রয় করে কৃষক লোকসানে রয়েছেন। কৃষক মাইনুল হক বলেন, কৃষি কাজ করে লাভ নেই। গোলার ধান ক্ষেতে নিয়ে ফেলে (ঝড় তুফানে না নিলেও) ঐ পরিমাণই নিয়ে ঘর লইতে হয়। মাঝখানে পরিশ্রম ফাও। সরকার ভারত থেকে চাল এনে আমাদের ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে। ধানের দাম না বাড়ালে কৃষি কাজ ছেড়ে দিবেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেক কৃষক।