ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

garurgare
ওহ কি গাড়িয়াল ভাই , হাকাও গাড়ি তুই, চিলমারীর বন্দরে । আবার গায়ের পথে গরুর গাড়ি। বউ চলছে বাপের বাড়ি। এই গান এখনও মানুষের মুখে মুখে ফিরলেও ময়মনসিংহে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীন ঐতিহ্যের গরু-মহিষের গাড়ি। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও ।

আজকাল গাড়িয়াল বন্ধুর জন্য পথের শেষের সীমানায় চোখ পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনে না নোলকপরা বিরহী বধূরা । নকশা কাটা ছই তোলা গরু – মহিষের গাড়িতে চড়েনা গায়ের বধূরা। সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে গতিময় যানবাহনের কাছে হেরে গেছে গরু মহিষের গাড়ি। এখন গ্রাম গঞ্জে আগের মত গরু মহিষের গাড়ি দেখা যায় না।

এক সময় ময়মনসিংহের সর্বত্র ঐতিহ্যবাহী বাহনের ক্যার ক্যার শব্দে সরগরম থাকতো গ্রামের মাঠ-ঘাট। বিয়ে বা অন্য কোন উৎসবে গরু মহিষের গাড়ি ছাড়া কল্পনাই করা যেতো না। কালে ভদ্রে গ্রামের পথে গরু মহিষের গাড়ি চোখে পড়লে দেখা যায় ঐতিহ্যের এ বাহনটি টানছে মানুষের পরিবর্তে মালামাল। জানা যায়, শুরুর দিকে গরু মহিষের গাড়ির মাটির চাকা ছিল । তারপর লাগানো হয় কাঠের চাকা ।

পাকিস্তানের পাজ্ঞাবের বর্তমান মন্টগোমারী জেলার প্রাচীন হরপ্পা ও সিন্ধু প্রদেশের বর্তমান লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ৫ হাজার বছরের জীবনযাত্রায় গরু-মহিষের গাড়ির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এছাড়া গরু মহিষের গাড়ির প্রচলন ছিল রাজা বাদশাহর আমলেও।