ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

Firoj-Jahangir
ময়মনসিংহে শহীদ ফিরোজ জাহাঙ্গীর স্মৃতি সৌধে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী ।
১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্রগণঅভ্যুত্থানে ২৮ নভেম্বর বুধবার সকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন ময়মনসিংহের দুই নক্ষত্র সর্বদলীয় নেতা মো: ফিরোজ ও জাহাঙ্গীর। এমন দিনটিকে স্মরন করে আজ শনিবার সকাল ৮ টায় গাঙ্গিনারপার শহীদ ফিরোজ জাহাঙ্গীর স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান, শহীদ ফিরোজ জাহাঙ্গীর স্মৃতি পরিষদ, জাসদ, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, বাসদ ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান শহীদ ফিরোজের পরিবারের পক্ষে ফিরোজের পুত্র শেখ মো: ফয়সাল।

পরে শহীদ জাহাঙ্গীর স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক্ষ আমীর আহম্মেদ চৌধুরী রতন এর সভাপতিত্বে শহীদদের স্মরণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অনুষ্ঠানে আমীর আহম্মেদ চৌধুরী রতন এক বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চলবে।

অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য দেন, জেলা জাসদের সহ সভাপতি রতন সরকার, সাধারণ সম্পাদক এড. সাদেক হোসেন, এড. সিব্বির আহম্মদ লিটন, এড. নজরুল ইসলাম চুন্নু, এড. এমদাদুল হক মিল্লাদ, এড. মোক্তালেব হোসেন লাল, মহিলা পরিষদের সভাপতি ফেরদৌস আরা মাহমুদা হেলেন, বাসদের নেতা এস এম আমিনুল ইসলাম রিঙ্কু, আমীর হোসেন আমিন, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা অনিক সরকার উদয়ন প্রমুখ।

Untitled-1 copy
২৮ নভেম্বর শহীদ ফিরোজ ও জাহাঙ্গীর দিবস। গনতন্ত্র উদ্ধারে স্বৈরাচার এরশাদ সরকার বিরোধী গণআন্দোলনে ১৯৯০ সালের এই দিনে ময়মনসিংহের রাজপথে পুলিশের গুলিতে মেধাবী ছাত্র নেতা ফিরোজ ও জাহাঙ্গীর শহীদ হন। ঘটনার ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও রাষ্ট্রীয় অনুমতি না পাওয়ায় দুই ছাত্রনেতা হত্যার আজো কোন বিচার হয়নি, মামলার আইনজীবী বলেন, সরকার যদি আন-রিক হয় তা হলে মামলাটি পুনরায় চালু হতে পারে। শহীদ জাহাঙ্গীরের মাতা নূরজাহান বেগম বলেন, দেশে অনেক হত্যার বিচার হলো কিন্তু আমার ছেলে হত্যার বিচার এখনো হলো না, মৃত্যুর আগে তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন সেই জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
১৯৯০ সালে দেশে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে রাজপথ ছাত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দখলে, ঠিক সেই মুহুর্তে শিক্ষা নগরী ময়মনসিংহের রাজপথ জনতার আন্দোলনে উত্তাপ্ত। মিছিলে মিছিলে শহর প্রকম্পিত। দিনটি ছিল নব্বইয়ের ২৮ নভেম্বর, শহরের প্রাণকেন্দ্র মহাকালী স্কুলের সামনে একটি মিছিল আসতেই পুলিশের গুলীতে আন্দোলনকারী মেধাবী ছাত্র নেতা ফিরোজ ও জাহাঙ্গীর নিহত হন। রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই দিনটি ময়মনসিংহে অবিস্মরনীয় হয়ে আছে। শহীদ ফিরোজ ও জাহাঙ্গীরের রাজপথের সহযোদ্ধা তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নজরুল ইসলাম চন্নু বলেন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ দুই ছাত্র নেতা সোচ্চার ছিলেন, তাদের আন্দোলনের স্মৃতিময় দিনগুলি আজো ভুলতে পারিনা।

ছাত্র আন্দোলনের সাহসী দুই সৈনিক পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর দোষী পুলিশদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নানা মুখী প্রক্রিয়ায় সেই মামলা আর আলোর মূখ দেখেনি। ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও আজো বিচার হয়নি, মামলার বাদী তৎকালীন জাসদের সাধারন সম্পাদক, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী নূরুল আমিন কালাম বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে গিয়ে আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছিল পরবর্তীতে সেই সব হত্যাকান্ডের বিচার আজো হয়নি। আমার জীবদশায় রাজপথ কাঁপানো শহীদ দুই ছাত্র হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

নব্বই সালে এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনে নিহত রাজপথের লড়াকু সৈনিক শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার কৌশলী এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত বলেন, ফৌজধারী আইনের ক্ষেত্রে সময় কখনও মামলা পরিচালনায় বাঁধা হয়ে দাড়ায় না, সরকার যদি আন্তরিক হয় তা হলে ২৫বছর পরেও মামলার বিচার কাজ শুরু করা সম্ভব।

শহীদ জাহাঙ্গীরের মাতা নূরজাহান বেগম সারাটি জীবন গেল ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে, দেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মানবতা বিরোধী হত্যাকান্ডের বিচার হলেও গত ২৫ বছরেও তার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, মৃত্যুর আগে তার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চান।

নব্বইয়ের রাজপথে সৈনিক সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা এডভোকেট আব্দুল মোতালেব লাল ও শওকত জাহান মুকুল বলেন, গনতন্ত্রের জন্য যারা সংগ্রাম করে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়,তাদের হত্যাকান্ডের বিচার না হলে গনতন্ত্র হুমকির মূখে পড়বে, আর কখনো যদি গনতন্ত্র সংকটাপন্ন হয় তা হলে দেশের যুবসমাজ ছাত্র সমাজ রাজপথে রক্ত ঝড়ানোর জন্য এগিয়ে আসবে না। ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাসকে ময়মনসিংহবাসী আজ ভুলতে বসেছে। গনতান্ত্রিক আন্দোলনে গনতন্ত্র রক্ষার অতন্দ্র প্রহরীদের হত্যার বিচার করার জন্য সরকারের এগিয়ে আসা উচিত ।