ক্যাটেগরিঃ কৃষি

1
ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা শহরে কাউনের চাল নিয়ে এসেছেন হাতেম আলী । প্রতিকেজি চাল ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি । বিক্রেতা হাতেম আলী জানান, শেরপুরের ঝগড়ার চর থেকে তিনি এই চাল কিনে এনেছেন । মুক্তাগাছায় কাউনের চাল কেনার হিড়িক পড়েছে । নতুন প্রজন্মের অনেকেই জীবনে প্রথম এই চাল দেখছেন বলে জানান । প্রবীণরা জানান, এক সময় এটি ময়মনসিংহের সর্বত্র পাওয়া যেতো । প্রতি গ্রামেই চাষ হতো কাউন ধানের । কাউন চাল ছিলো গরীবের খাবার । ছোট দানা বিশিষ্ট শস্যটির দাম এখন গরীবদের হাতের নাগালের বাইরে। কাউন এখন বিলাশী চাল । মিষ্টান্ন পায়েস, ক্ষির ও ঝাল খাবার হিসাবে খিচুরি , পোলাও রান্নায় কাউন চাল এখন ধনীদের প্রিয় খাবার ।
2

ছবি ক্যাপশন: মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : কাউন চাল (১) ক্রেতা বিক্রেতা (২)

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাউনের স্থানীয় জাত ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘তিতাস’ নামের একটি জাত আছে। কাউনের এ জাতটি শিবনগর নামে ১৯৮০ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং দেশী বিদেশী জাতের সাথে তুলনামূলক মূল্যায়ণের পর ১৯৮৯ সালে তিতাস নামে অনুমোদন করা হয়। তিতাস জাত উচ্চ ফলনশীল, আগাম রোগ ও পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। তিতাস জাতের গাছ মাঝারি লম্বা, পাতা সবুজ, কাণ্ড শক্ত । গাছ সহজে নুয়ে পড়ে না । শীষ বেশ লম্বা, মোটা এবং রেশমী। বীজ মাঝারি আকারের এবং ঘিয়ে রংয়ের । হাজার বীজের ওজন ২.৩-২.৫ গ্রাম । স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন প্রায় ৩০-৩৫% বেশী । জাতটি রবি মৌসুমে ১০৫-১১৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৮৫-৯৫ দিনে পাকে । তিতাস জাতটি গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন । রবি মৌসুমে তিতাসের ফলন হেক্টর প্রতি ২.০-২.৫ টন। খরিফ মৌসুমে এর ফলন একটু কম হয়।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এক সময় কাইন ধান আবাদ করতেন এমন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের ঐতিহ্য কাউন চাল। আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে না পারায় মুক্তাগাছাসহ ময়মনসিংহে স্থানীয় জাতের এই কাউন ধান চাষ বছর বছর কমছে । একসময় ময়মনসিংহের অধিকাংশ জমিতেই কাউন ধানের চাষ হতো । কাইন ধানের চাল বর্ণে হলুদ । এর চালের ভাত খেতে খুবই সুস্বাদু । এই চাল সবজী সিদ্ধ দিয়ে খেলে ভোজনে পরম তৃপ্তি পাওয়া যায় । তাছাড়া ভাতের স্বাদের কারণে উপকরণ হিসাবে তরি তরকারী , মাছ মাংস কম খেলেও তৃপ্তি আসে । কাউন চাল বিক্রেতা হাতেম আলী জানান, ভোজন রসিকরা অগ্রিম টাকা দিয়ে এই চাল বুকিং করে রাখেন । কৃষকরা জানান, কাউন ধানকে হাইব্রীডে রুপান্তর করা হলে প্রতিযোগীতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব ।