ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ba
ময়মনসিংহে ৩৮০ পিস ইয়াবা সহ আজম (২২)নামে এক যুবক কে গ্রেফতার করেছে ২ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মুক্তাগাছার একটি টিম । ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কেশর আলী রোড থেকে | ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কেশর আলী রোড থেকে রবিবার দুপুর ২টার দিকে ২য় এপিবিএন এর সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম এর নেতৃত্বে এবং ক্রাইম শাখার সহযোগীতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ |কোতয়ালী মডেল থানায় ইয়াবা ব্যবসায়ী আজম এর বিরুদ্ধে মাদক দমন আইনে মামলা হয়েছে ।
baba
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ইয়াবার আবির্ভাব ঘটে ১৯৯৭ সালে।[২] । পরবর্তীতে ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার থেকে ইয়াবা আসতে শুরু করে।[২] । এই ট্যাবলেটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হবার কারণে উচ্চবিত্তদের মাঝেই এটি মূলত: বিস্তার লাভ করে।

ইয়াবার মূল শব্দ থাই থেকে উত্পত্তি। সংক্ষিপ্ত অর্থ পাগলা ওষুধ। অনেকে একে বলে ‘ক্রেজি মেডিসিন‘। মূল উপাদান মেথঅ্যামফিটামিন। আসলে ইয়াবা নেশা জাতীয় ওষুধ। এক ভয়াবহ মাদক যা মস্তিষ্ক, হূদযন্ত্র এবং শরীরের যে কোনো অঙ্গকেই আক্রান্ত করতে পারে। ধীরে ধীরে অকেজো করে দেয় একটি সুন্দর দেহ, মন ও মানসিকতার। ইয়াবা আসক্তির কারণে মস্তিষ্কের বিকৃতি হতে পারে। মাঝে মাঝে ইয়াবার সঙ্গে ক্যাফেইন বা হেরোইন মেশানো হয়, যা আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি এক সময় সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হতো কোনো কোনো দেশে। আরো ব্যবহার করা হতো ওজন কমানোর ওষুধ হিসাবে। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত শিক্ষার্থী, দীর্ঘ যাত্রার গাড়ি চালক ও দৌড়বিদরা এটি ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে এর কুফল বা দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া উদঘাটিত হতে থাকায় বিশ্বব্যাপী এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সেনাদের নিদ্রা, ক্ষুধা ও ক্লান্তিহীন করার জন্য ইয়াবা জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হতো। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্লন্তি দূর করতে ও সজাগ থাকতে সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল মেথঅ্যামফিটামিন। সেনারা হতো হিংশ্র, ক্লান্তিহীন ও আগ্রাসী। কিন্তু একবার আসক্ত হয়ে যুদ্ধ ফেরত সেনারা মানসিক অবসাদ গ্রস্ততায় ভুগত এবং আরও হিংশ্র হয়ে উঠত। এক সেনা আরেক সেনাকে গুলি করে মারত, আবার কখনো নিজে আত্মহত্যা করত।

বাংলাদেশের টেকনাফ বর্ডার দিয়ে মাদক হিসেবে ইয়াবা প্রথম প্রবেশ করে ১৯৯৭ সালে। ইয়াবা হলো মেথাফেটামাইন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণ। মাদকটি একাধারে মস্তিষ্ক ও হূদ্যন্ত্র আক্রমণ করে। এর পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট এডলফ হিটলার তার মেডিকেল চিফকে আদেশ দিলেন দীর্ঘ সময় ব্যাপি যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাদের যাতে ক্লান্তি না আসে এবং উদ্দীপনায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে বা বিমানের পাইলটের নিদ্রাহীনতা, মনকে উৎফুল, চাঙ্গা রাখার জন্য একটা কিছু আবিস্কার করতে।

টানা ৫ মাস রসায়নবিদগণ চেষ্টা চালিয়ে মিথাইল অ্যামফিটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রনে তৈরি করলেন ইয়াবা। ব্যাস! হিটলারের উদ্দেশ্য সফল। সেনারা মানসিক শক্তিতে বলিয়ান হল।

ইয়াবা অর্থ পাগলা ঔষধ- একধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট। এটি মূলত মেথঅ্যাম্ফিটামিন ও ক্যাফেইন এর মিশ্রন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কখনো কখনো এর সাথে হেরোইন মেশানো হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার বড়ি হিসাবে সেবন করা হয়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধাতব ফয়েলে পুড়িয়ে ধোঁয়া হিসাবেও এটিকে সেবন করা হয়ে থাকে। এই মাদকটি থাইল্যান্ডে বেশ জনপ্রিয়, এবং পার্শ্ববর্তী দেশ বার্মা থেকে এটি চোরাচালান করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর অনেক দেশেই এই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।
ঢাকায় তিন ধরনের ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রথম ধরনের ইয়াবা ট্যাবলেটের বেশির ভাগ সবুজ বা গোলাপি রঙের হয়। এর ঘ্রাণ অনেকটা বিস্কুটের মত হয়ে থাকে। দ্বিতীয় ধরনেন ইয়াবা ট্যাবলেট এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু এটিও নেশাসৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তৃতীয়ধরনের ট্যাবলেটি আরও সস্তা এবং নেশায় আষক্তদের নিকট এটি ভেজাল বলে পরিচিত।ইয়াবা সেবনকারীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা অনুসারে, চিতা নামের পিলটি সবচেয়ে নিম্নমানের ইয়াবা পিল হিসেবে গণ্য হয়। এর গায়ে ক্ষুদ্র চিহ্ন থাকে। অন্যদিকে গোলাপ জল নামের ইয়াবা পিলকে উচ্চ মান পিল হিসেবে গণ্য করা হয়। ইয়াবা পিলের গায়ে ইংরেজি ডাব্লিউ ওয়াই (WY) লেখা থাকে। ওয়াই (Y) লেখার ধরণ দীর্ঘ হলে এবং ইয়াবার রঙ পুরোপুরি গোলাপি হলে ধারণা করা হয় সেটি ইয়াবা হিসেবে ভাল মানের।
প্রথমদিকে ইয়াবা যৌনউত্তেজক বড়ি হিসাবে বাজারে পরিচিত ছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিন সেবনের ফলে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। যুক্তরাজ্যের ড্রাগ ইনফরমেশন এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ইয়াবা ট্যাবলেটটি খেলে সাময়িক ভাবে উদ্দীপনা বেড়ে যায়। কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হেরোইনের চেয়েও ভয়াবহ। নিয়মিত ইয়াবা সেবন করলে মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরন, নিদ্রাহীনতা, খিঁচুনি, ক্ষুধামন্দা এবং মস্তিস্ক বিকৃতি দেখা যেতে পারে। ইয়াবা গ্রহণের ফলে ফুসফুস, বৃক্ক সমস্যা ছাড়াও অনিয়মিত এবং দ্রুতগতির হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত হারে ইয়াবা গ্রহণ হাইপারথার্মিয়া বা উচ্চ শারীরিক তাপমাত্রার কারণ হতে পারে। অভ্যস্ততার পর হঠাৎ ইয়াবার অভাবে সৃষ্টি হয় আত্মহত্যা] প্রবণতা এবং হতাশা।দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা খেলে স্মরণশক্তি কমে যায়, সিদ্ধান্তহীনতা শুরু হয় এবং কারও কারও ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। অনেকে পাগল হয়ে যায়। ডিপ্রেশন বা হতাশাজনিত নানা রকম অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, এমনকি অনেকে আত্মহত্যাও করে থাকে। এছাড়া হার্টের ভেতরে ইনফেকশন হয়ে বা মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়েও অনেকে মারা যান। অনেকে রাস্তায় দুর্ঘটনায় পতিত হন। কেউ কেউ টানা সাত থেকে ১০ দিন জেগে থাকেন। ইয়াবার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক ডা. মোহিত কামাল বলেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নিদ্রাহীনতা, খিঁচুনি, মস্তিষ্ক বিকৃতি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক, ঘুমের ব্যাঘাত, শরীরে কিছু চলাফেরার অস্তিত্ব টের পাওয়া, অস্বস্তিকর মানসিক অবস্থা, কিডনি বিকল, চিরস্থায়ী যৌন-অক্ষমতা, ফুসফুসের প্রদাহসহ ফুসফুসে টিউমার ও ক্যান্সার হতে পারে। এ ছাড়া ইয়াবায় অভ্যস্ততার পর হঠাৎ এর অভাবে সৃষ্টি হয় হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা। তিনি বলেন, এ মাদক সাধারণ শান্ত ব্যক্তিটিকেও হিংস্র ও আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। ইয়াবা গ্রহণে হ্যালুসিনেশন ও সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। হ্যালুসিনেশন হলে রোগী উল্টোপাল্টা দেখে, গায়েবি আওয়াজ শোনে। আর প্যারানয়াতে ভুগলে রোগী ভাবে অনেকেই তার সঙ্গে শত্রুতা করছে। তারা মারামারি ও সন্ত্রাস করতেও পছন্দ করে।

মিয়ানমার

মিয়ানমারে ওয়া এবং কোকাং নামের আদিবাসী সম্প্রদায় মেথাম্ফেটামিন পিল বা ইয়াবা এর সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী। এই দুই গোষ্ঠীর লোকজন পূর্বে আফিম এবং হেরোইন উৎপাদন এর সাথে জড়িত ছিল।

উল্লেখ্য যে মিয়ানমারে খুব সাধারণ ল্যাবরেটরিতেও মাত্র ২০ হংকং সেন্টের বিনিময়ে প্রতিটি ইয়াবা পিল তৈরি করা হতো। ২০০০ সালে থাইল্যান্ডের সরকার মিয়ানমার সরকারকে সীমান্তে যৌথ টহলের জন্য ব্যাপক চাপ দেয়। মূলত থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান ২৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা র চোরাচালান ব্যাপক চোরাচালান রোধের জন্য এই চাপ প্রয়োগ করা

থাই সরকার ১৯৭০ সালে ইয়াবা ট্যাবলেটকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেসময় এটি সেদেশে পেট্রল পাম্পে বিক্রি হতো, এবং থাই ট্রাক চালকেরা জেগে থাকার জন্য এটা ব্যবহার করতো। ইয়াবাসেবী ট্রাক ও বাস চালকদের হাতে অনেক গুলো ভয়াবহ বাস দূর্ঘটনা ঘটেছে। থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা ২০০৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। এর পর থেকে থাইল্যান্ডে এই মাদকের প্রকোপ কমে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান ধরা পড়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১৪ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছেন নৌবাহিনীর চোরাচালান প্রতিরোধ দলের সদস্যরা। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, পাশের কোনো দেশ থেকে এ চালানটি আসতে পারে।
নৌবাহিনীর এ অভিযানের তিন ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আরও ৭০ হাজার ইয়াবা বড়ি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় নাফ নদীতে একটি নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি নাফ নদীর মোহনা থেকে তিন লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছিল র্যাব। এটি ছিল ওই সময় পর্যন্ত উদ্ধার করা ইয়াবার বৃহত্তম চালান।
ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে নৌবাহিনীর চোরাচালান প্রতিরোধ দলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আতিকুর রহমান জানান, কর্ণফুলী নদীর বাংলাবাজার ঘাটে ইয়াবার চালান খালাস হবে—এমন গোপন সংবাদ ছিল। এ কারণে বুধবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে বন্দরের ১ নম্বর বয়ার কাছে এবং কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে নৌবাহিনীর চোরাচালান প্রতিরোধ দলের সদস্যরা অবস্থান নেন।
কমান্ডার এস এম আতিকুর রহমান জানান, বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে বন্দরের ১ নম্বর বয়ার অদূরে ‘এফবি রাজীব’ নামে কাঠের তৈরি একটি মাছ ধরার ট্রলারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তা থামতে সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রলারটি কর্ণফুলী নদীর দিকে না এসে গতিপথ পরিবর্তন করে। এ সময় স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা ট্রলারটি নিয়ে আনোয়ারার পার্কি সৈকতের দিকে ছুটতে থাকে। উপকূলের কাছাকাছি যাওয়ার পর ট্রলার থেকে সাত-আটজন চোরাকারবারি পানিতে ঝাঁপ দেয়। তারা সাঁতরে উপকূলের দিকে পালিয়ে যায়।
অভিযানে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা জানান, উপকূলের দিকে যেতে হলে নৌবাহিনীর স্পিডবোটের গতি কমাতে হয়। এ ছাড়া উপকূলে পানির গভীরতা কম থাকায় সরাসরি তীরে ভেড়ে না এসব স্পিডবোট। যে কারণে চোরাকারবারিদের ধরা যায়নি। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে স্কচটেপ মোড়ানো প্যাকেটভর্তি এসব ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১১টি বড় কার্টনে ১০ লাখ ও বেশ কিছু ছোট প্যাকেটে বাকি চার লাখ ইয়াবা বড়ি ছিল। ট্রলারটি নৌবাহিনীর ফ্লোটিলা জেটিতে (৪ নম্বর) নোঙর করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে এস এম আতিকুর রহমান জানান, এফবি রাজীব নামের ট্রলারটিতে কোনো কাগজপত্র ছিল না। ফলে ট্রলারটির মালিক কে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, আশপাশের কোনো দেশ থেকে এই চালানটি আনা হতে পারে।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দ করা ট্রলারটি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তপন কান্তি শর্মা জানান, ১৪ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় জিডি করা হয়েছে। ট্রলার মালিকের নাম-পরিচয় পাওয়ার পর মামলা হবে।
নৌবাহিনীর অভিযানে বন্দরের জলসীমা থেকে এ বছরের ১৪ জানুয়ারি ১ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩১ জানুয়ারি ৩০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ২২ জুন ৩০ হাজার এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
টেকনাফে ৭০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার: কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় নাফ নদীতে গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে বিজিবির টহল দল নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে ৭০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে। জব্দ করা হয়েছে নৌকাটি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদ প্রথম আলোকে জানান, ইয়াবাগুলো বিজিবির ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে জমা রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টেকনাফ থেকে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫৫টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭৩ জনকে। মামলা হয়েছে ৪০টি।
ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান আটক করাকে র‌্যাবের বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন সংস্থাটির প্রধান বেনজীর আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রবন্দরে অভিযান চালানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় র‌্যাব এই সাফল্য দেখাতে পেরেছে।

১৮ জানুয়ারি, ২০১৬ র‌্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ডিজি এসব কথা বলেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব ডিজি জানান, এটাই স্মরণকালের বৃহত্তম ইয়াবা চালান যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি জানান, এই বাহিনীর প্রধান আলী আহমদসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

র‌্যাব ডিজি জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য ১১৩ কোটি টাকা।

তিনি জানান, গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় ৯২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭১ লাখ পিস ইয়াবা।