ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

জয়েনশাহী পাহাড় বা রসুলপুর বনের পাদদেশ জুড়ে যে জনবসতি গড়ে উঠেছিল, সে সব অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ছিল লাল মাটির টিলা যাকে স্থানীয় ভাষায় টেঙ্গর বলা হয়।

টেঙ্গরের লাল মাটি গৃহ নির্মাণে উপযোগী বলে ঐ অঞ্চলের সব বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হতো লাল মাটিতে । বনে পাওয়া যেতো প্রচুর ছন, যা দিয়ে ছাউনি দেওয়া (ছাওয়া) হতো এই মাটির ঘর।

 

ময়মনসিংহে

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : ছনের চালের মাটির ঘর

 

প্রখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার সফর নামায় এই অঞ্চলের ঘরবাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন , এখানকার অধিবাসিরা বাস করেন মাটির ঘরে ।

এখনও শতকরা ২৫ ভাগ বাড়িঘর মাটির তৈরী । কালের পরিবর্তনে জয়েরশাহী গড় বনশূন্য হয়ে পড়েছে। এখন আর পর্যাপ্ত ছনও জন্মে না। তেমনি পাশের টিলা অঞ্চল কৃষির প্রয়োজনে কেটে সমতল করা হয়েছে। ফলে পযৃাপ্ত লাল মাটি এখন আর পাওয়া যায় না। তাই ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে মাটির তৈরী ঘর।

এই অঞ্চলে গৃহনির্মাণের প্রাচীনতম মাধ্যম হিসাবে লাল মাটি আর ছনের ব্যবহার আবহমানকালের বলে মাটির তৈরী ছনের ঘর ঐতিহ্যের দাবী রাখে। এই ঐতিহ্যের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আদিম আবাসন রীতির নানাবিধ প্রকৃতিক সুবিধা , যা ইট বা টিনের তৈরী আবাসনের চাইতে অবশ্যই উত্তম।

 

ময়মনসিংহ

কালিবাড়ি বাজারে তোলা মাটির ঘরের প্রধান উপকরণ ছন

 

মাটির তৈরী গৃহনির্মাণের কারিগর যারা র্দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন তারা নতুন গৃহ নির্মাণ না হওয়ায় যেমনি নিরুৎসাহিত হচ্ছেন তেমনি নতুন কারিগরও গড়ে উঠছে না। ফলে মাটির তৈরী বাড়িঘর ক্রমেই বিলীন হচ্ছে ।

এ এলাকায় লাল মাটির তৈরী ছনের ঘর টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন উদ্যোগ।