ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

ময়মনসিংহে যাত্রী বাহনকারী ম্যাক্সি বিলুপ্ত হয়ে গেছে । ম্যাক্সির স্থান এখন পালকির দখলে । জানা যায়, বিগত ২ হাজার সালে ময়মনসিংহে আমদানী করা হয় অর্ধ শতাধিক ম্যাক্সি । ভারতের টাটা মটরস এর তৈরি ম্যাক্সির আমদানী কারক প্রতিষ্ঠান ছিল বাংলাদেশের নিটল মটরস ।
maxi

বিলুপ্ত ম্যাক্সির মালিক ও চালক সূত্রে জানা যায়,ম্যাক্সির যন্ত্রাংশগুলি ছিলো খুবই নিন্মমানের। বডি থেকে শুরু করে আকা-বাঁকা চেচিচ, ফ্রন্ট এ্যক্সেল,ডিভারেনস্যাল,চাকার ড্রাম,স্টিয়ারিং বক্স,টায়ারড.পুষরডসহ ইঞ্জিনের হেড,ভাল্ব,রিং,পিষ্টন,কানেন্টিংসহ প্রায় প্রতিটি যন্ত্রাংশই ছিলো নিন্মমানের। রাবারের চাকাগুলিতে যে পরিমাণ ফ্লাই উল্লেখ করা ছিলো বাস্তবে তার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি।

নিন্মমানের বডির কারনে আমদানি করার মাত্র কয়েক বছরের মাথায় ভেঙ্গে চুড়ে ব্যাবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। লাভের কথা বিবেচনা করে যারা এ সমস্ত ম্যাক্সি কিনেছিলেন তারা আজ ব্যবসায়ীকভাবে দেওলিয়া হয়ে গেছেন। প্রায় সকল ম্যাক্সিই আজ বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে ।

লাখ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করা ম্যক্সির অধিকাংশই নিটোল মটরর্স এর মাধ্যমে কিস্তির মাধ্যমে ক্রয় করেন ভুক্তভোগিরা। ব্যবহার অনুপযোগী এবং অতিরিক্ত জ্বালানী তেল শোষনকারী ম্যাক্সির ক্রেতা সাধারণ বিনিয়োগের টাকা উঠাতে পারেননি । উপরন্তু নিটল মটরসকে এখনও পরিশোধ করতে হচ্ছে কিস্তির টাকা।

এদিকে ম্যাক্সি বিলুপ্তির পর, ভারতের টাটা মটরস এর তৈরি পালকি (স্থানীয় ভাষায় ) নামের আরেকটি যাত্রী বহনকারী যান ময়মনসিংহে স্থান দখল করে নিয়েছে । গত ছয় মাসে ময়মনসিংহে পালকীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬০ টিরও অধিক । পালকীর মালিক চালক সূত্রে জানা গেছে, আমদানী কারক প্রতিষ্ঠানে তিন লাখ টাকা জমা দিলেই পাওয়া যায় পালকী । বর্তমানে নগদে প্রতিটি পালকীর দাম সাড়ে ৯ লাখ টাকা হলেও কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ।

palanquin

সরেজমিনে দেখা গেছে, পালকি নামের এই যানের অধিকাংশ চালক শিশু-কিশোর। অভিযোগ, স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে বিআরটিএ’র অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালকীগুলি চলছে ময়মনসিংহ শহর, মুক্তাগাছা, রসুলপুর, অষ্টধর, পিয়ারপুর ও বিদ্যাগঞ্জ, কাঠবওলা , রসুলপুরসহ বিভিন্ন সড়কে।

আনাড়ি চালকদের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা । এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ময়মনসিংহ- মুক্তাগাছা সড়কের ঘুন্টি রেল ক্রসিংএ চলন্ত ট্রেনে এসে ধাক্কা খায় একটি পালকি । এতে বেশ কয়েকজন আহতও হন ।

অপরদিকে চলাচলরত উপরোক্ত রাস্তায় গড়ে তোলা হয়েছে কমপক্ষে ৬টি অবৈধ স্ট্যান্ড । পালকির অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে ঘটছে প্রচন্ড যানজট । আইন শৃংঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিতদের সূত্রে জানা গেছে, ৬ জুন এক সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যস্ততম ওই সড়ক থেকে অবৈধ পালকীর স্ট্যান্ড অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন ।
এব্যাপারে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, অবৈধ পালকি স্ট্যান্ড উচ্ছেদে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন জানান, এব্যাপারে ওসি মুক্তাগাছাকে জানালে ভালো হয় ।

মুক্তাগাছা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবু মো: ফজলুল করিম জানান, প্রশাসন , পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ,মটর মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নসহ সকলে আত্নরিক হলে পালকীসহ সকল অবৈধ ডানবাহন স্ট্যান্ড স্থানান্তর সম্ভব ।