ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

mymensingh)alexandra cassel
মুক্তাগাছার জমিদারদের যে সকল স্থাপনা এখনো পর্যটকদের কৌতুহল জাগায় তার মধ্যে একটি ময়মনসিংহে স্থাপিত আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল (বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ পুরুষ) । আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল লোহার কুঠি নামেও সমাধিক পরিচিত। বাড়িটি তৈরী করতে লোহার পরিমাণ বেশী লেগেছিল তাই এই নামকরণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহসহ অনেক রাজপরিবারের সদস্য এই বাগান বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়,১৮৭৯ সালে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এ জমিতে নির্মাণ করা হয় বাংলো আদলের সুরম্য বাগানবাড়ি লোহার কুঠি বা আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল । ক্যাসেলের ভেতরে ছিলো শ্বেত পাথরের ফ্লোর । যদিও এখন আর তা নেই ।

surjokanto
আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলের প্রতিষ্ঠাতা ময়মনসিংহের খ্যাতিমান জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী । তিনি প্রায় ৪২ বছর জমিদারী পরিচালনা করেন।১৯২০ সাল(বাংলা) , বাংলার গভর্ণর রোনাল্ড তাকে মহারাজা উপাধি দেন। তিনি ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক।
মহারাজার আমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহে আসেন। সেসময় কবির সফরসঙ্গী ছিলেন তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ, পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ইতালির অধ্যক্ষ জোসেফ তুচি প্রমুখ। ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কবি গুরু সূর্যকান্তের বাগান বড়ি আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলে অবস্থান নেন । সেই সময় থেকে কবির অবস্থানে গর্বিত ময়মনসিংহের আম জনতা । সেই আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল এখন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ।
mymensingh,alexandra cassel(memory tree)
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলে অবস্থানকালে একটি বিশালাকার বৃক্ষতলে বসে অনেক কবিতা রচনা করেছেন । গাছটি এখনো ভ্রমণপিপাষুদের আকৃষ্ট করে । বৃক্ষটির নীচে বসলে ব্রহ্মপুত্র নদের শীতল বাতাসে শরীর মন জুড়িয়ে নেন বিশ্বকবির মত অনেকেই। আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলের ১৯৪৮ সালে ২৭ দশমিক ১৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় হয় টিচার্স ট্রেনিং কলেজ। প্রথমে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কলেজে বেশ কয়েকটি সুবিশাল ভবন নির্মিত হলে ক্যাসেলের দোতলায় স্থানান্তরিত হয় শিক্ষকদের বাসভবন । তৎপরর্বীতে গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল । ৮ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনে রয়েছে প্রায় ১৫,০০০ গ্রন্থ । একসময় আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীর থাকলেও পরবর্তীতে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় । টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কর্তৃপক্ষ অবাধ যাতায়াত ও সংরক্ষণে একটি অংশে তারের বেড়া স্থাপন করলেও সিংহভাগ রয়ে গেছে অরক্ষিতই ।
ময়মনসিংহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রাঁখী রায় জানান, আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলটি পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে । টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম জানান, আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ । সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইলে আমরা সহযোগীতা করতে রাজি আছি । ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী জানান, দৃষ্টিনন্দন এসমস্ত স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রসাশনেরই নয় , ময়মনসিংহবাসী তথা সকলের ।

ছবি ক্যাপশন: আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল (১)মহারাজা সূর্যকান্ত (২)বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত বৃক্ষ(৩)