ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ২১আগস্ট ঐতিহাসিক শালিহর গণহত্যা দিবস। একাত্তরের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী গৌরীপুরের শালিহর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করেছিল ১৩ জনকে। এসময় ধরে নিয়ে যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসিমের পিতা ছাবেদ আলীকে। আজো বাড়ি ফিরেননি তিনি। তাকে তার খুঁজে পাননি স্বজনেরা। ঐদিন বহু নিরীহ মানুষের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও পূনর্বাসন করা হয়নি ক্ষতিগ্রস্থদের।

১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট শহীদ হন মোহিনী কর, জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর, যোগেশ চন্দ্র , নবর আলী, কিরদা সুন্দুরী, শচীন্দ্র চন্দ্র দাস, তারিনী মোহন দাস, খৈলাশ চন্দ্র দাস, শত্রুগ্ন দাস, রামেন্দ্র চন্দ্র দাস, কর মোহন সরকার, দেবেন্দ্রে চন্দ্র দাস, কামিনী মোহন দাস।

mymensingh,45 years failed to find relatives

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র মোহন করের ছেলে ডা: বাদল চন্দ্র কর সেখান থেকে পাক হানাদার বাহিনীর ভয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট সাব-সেক্টরে চলে যান। সেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে ডা: বাদল চন্দ্র কর তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ডা: বাদল চন্দ্র কর ২০১৪ সালে মারা যান। তার ছেলে অমল কান্তি কর বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

একাত্তরে এদিনে ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জগামী ট্রেন শালীহর গ্রামে এসে থেমে যায়। পাকবাহিনীর দু’টি প্লাটুন একটি দক্ষিণমুখী আরেকটি উত্তরমুখী যাত্রা করে। উত্তরে এসেই প্রথমে ছাবেদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধরে নিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা আশুতোষ রায়ের বাড়ীতে পাকবাহিনী প্রথম অগ্নি সংযোগ করে। এরপর শালীহর গ্রামের ৪০টি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে। বিসকা ঠাকুরবাড়ীর রেন্ট্রিগাছতলায় কোমড়ে দরি বেঁধে ৩শ মানুষকে আটক করে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। সেখানে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল এমন ১৩জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শালীহর বধ্যভূমিতে গ্রামবাসীকে ডেকে এনে বন্ধুকের বাট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে চালানো হয় নির্যাতন। পাকবাহিনীর আক্রমণে পুরোগ্রামটি ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। শহীদদের স্মরণে প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুর রহিম জানান, প্রতি বছরের এবারও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্বজন সমাবেশ ২১ আগস্ট নানা কর্মসূচীতে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। শহীদদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা, পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে শালীহর বধ্যভূমিতে।