ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে ফুটছে কাশফুল । শরৎ ঋতুতে ফোটা দৃষ্টিনন্দন কাশফুল ব্রহ্মপুত্রের অপার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন তার চিত্রকর্মে। ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ কাশের মূল নদ তীরে সম্প্রসারিত হয় চিরল পাতার ধারালো গাছে পালকের মতো নরম এবং সাদা ফুলে ।

mymensingh,catkin
রবীন্দ্রনাথ ‘কুশজাতক’ কাহিনী অবলম্বন করে ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুল মনের কালিমা দূর শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। শুভ কাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহৃত হয় ।হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘পুরাণ’-এ কুশের স্থান শীর্ষে ।কাশের সাদা ফুলের মধ্যে খেলা করে ফড়িং। নদীর তীরজুড়ে সাদা কাশফুল দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ছুটে বেড়ায় শিশুরা। ছুটে বেড়ায় তারা ফড়িংয়ের পেছনে পেছনে। ব্রহ্মপুত্র নদে এটি একটি চিরায়ত দৃশ্যপট ।

দু:খের বিষয় সাম্প্রতিক সময়ে কমে আসছে কাশবন। কমছে ব্রহ্মপুত্র নদপাড়ে কাশবন দেখতে আসা পর্যটকরাও। ইকোসিস্টেম তথা জলবায়ু পরিবর্তন ও চর এলাকায় জমি চাষাবাদ ও ঘর-বাড়ি নির্মাণের কারণে বিলুপ্তির পথে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাশবন। নদের তীরে আগের মত সারিবদ্ধ কাশবন আগের মত চোখে পড়ে না । তারপরও যেটুকু আছে তা দেখেই মুগ্ধ হন দর্শনাথীরা ।

জানা যায়, কাশ গাছের সৌন্দর্যের কথা সবাই জানলেও এর বহুবিধ ব্যবহারের কথা জানে না অনেকেই । গ্রাম এলাকার জ্বালানি ও কম দামে পানের বরজের ছাউনি হিসেবে কাশের ব্যবহার হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের মতে, কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন- পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পিত্তথলির পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গাত্র দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়াও শরীরে ব্যথানাশক ফোঁড়ার চিকিৎসায় কাশের মূল ব্যাবহৃত হয় ।

কাশবন কমে যাওয়ার পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব দাবী পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের । প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কোনো কিছুর পরিবর্তন প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনই নির্দেশ করে। জ্বালানি বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য নয়, অন্তত মানুষের সৌন্দর্য প্রেমিদের মনের চাহিদার জন্য হলেও নদী তীরে থাকুক আগের মত দিগন্ত-বিস্তৃত কাশবন। জমি দখল আর নদের তীরে চাষাবাদ বেড়ে যাওয়ায় কাশবনের পরিধি কমে এসেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বিশাল চর দখলের মাধ্যমে বাড়ি-ঘর নির্মাণ ও চাষাবাদের কারণেও কমছে কাশবন।