ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গোবড়াকুড়া কড়–ইতলী শুল্ক ষ্টেশনে কয়লার ক্রয় বিক্রিয় কমে যাওয়ায় প্রায় চার সহস্রাধিক সংশ্ষ্টি শ্রমিক পরিবার এবার ঈদুল আযহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় রয়েছেন। ভারত থেকে আমদানী করা কয়লার আমদানী হ্রাস, দাম কমে যাওয়া এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমিকরা এই সংকটের কবলে পড়েছেন । এই দুই শুল্ক ষ্টেশন থেকে বিপুল অংকের টাকা রাজস্ব আয় হলেও মন্দ ব্যবসার কারণে রাজস্ব আয়েও যেমন ঘাটতির মুখে পড়েছে তেমনি গোটা এলাকায় দেখা দিয়েছে এবারের ঈদে বড় রকমের আর্থিক মন্দা।

DSC01878

উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হালুয়াঘাট বাজার ,ধারা বাজার,সূর্য্যপুর বাজার, নাগলা বাজার, সাকুয়াই বাজার, মেকিয়ারকান্দা বাজার, বোয়ালমারা বাজার, শাপলা বাজার, কড়াইতলী বাজার ,শহীদ বাজার, সংড়া বাজার, ছাতুগাও বাজার, কালাপাগলা বাজার , কৈচাপুর বাজার , নড়াইল বাজার ,কুমুরিয়া বাজারসহ ১৮টি হাট বাজারেও পড়েছে এর প্রভাব । ফলে ঈদের কোরানির হাট কিংবা মার্কেটে শাড়ি লুঙ্গী, জামা-কাপড়সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কেনা কাটায় দেখা মিলছে না অধিকাংশ এলাকার ক্রেতাদের।

এলাকার ধনার্ঢ্য কয়লা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ঈদুল আযহার সময় নিজ নিজ এলাকায় যাকাতের শাড়ী, লুঙ্গি ও দরিদ্র আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে নগদ অর্থ বিলি করতেন, সেই সঙ্গে দিতেন কোরবানী। কিন্তু এই বছর সে আমেজে অনেকটা ভাঁটা পড়েছে। ইটভাটায় যেমন আটকে পড়েছে বকেয়া কোটি কোটি টাকা তেমনি ভারতীয় রফতানীকারক প্রতিষ্টানেও আটকা পড়েছে বিনিয়োগের কোটি কোটি টাকা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ শতাধিক স্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, সহ¯্রাধিক কয়লা সরবরাহকারী ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্নস্থানে ইট ভাটায় আমদানিকৃত কয়লা সরবরাহ করে আসছেন। কয়লাবাহি ট্রাক আনলোড করা, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে স্টাফ, নৈশ প্রহরি সহ চার সহ¯্রাধিক শ্রমিক পরিবারের রুটি রুজির বিষয়টি কয়লা ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

ক্রয় বিক্রয় কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা তাদের জমানো টাকা ছাড়াও বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি পরবর্তীতে ধার দেনা ও এনজিওর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ এনে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিনানিপাত করছেন।

কয়লা শ্রকিরা জানান, পরিবারের ভরণ পোষন নির্ভর করে কয়লা পরিবহনের আয় থেকেই, এতদিন ধার দেনা ও ঋণ নিয়ে সংসার চালিয়েছি কিন্তু ঈদুল আযহার আনন্দ থেকে আমরাসহ গোটা এলাকার সকল শ্রমিক পরিবার বঞ্চিত, শ্রমিকদের পরিবারের জন্য এই বছর ঈদে নতুন জামা-কাপড়, কিংবা তেল, গুড় সেমাইসহ কোন কিছু কেনা সম্বভ হবে না ।

কয়লা শ্রমিক সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোঃ হাবিবুল মিয়া জানান, আমাদের সমিতির একেক জন শ্রমিক ১৫০ টাকা হারে মজুরি পেয়ে দৈনিক ৪/৫টি কয়লাাহি ট্রাক আনলোড করতে পারত, এখন কয়লা ক্রয় বিক্রয় কমে যাওয়ায় অধিকাংশ
শ্রমিক পরিবারে ঠিকমত তিন বেলা খাবার জুটেনা তাই এ বছর ঈদের আনন্দ নেই আমাদের মত শ্রমিকদের ঘরে।

বৃহৎ কয়লা আমদানীকারক আলী আজগর জানান, বিভিন্ন ইটভাটায় আমার মত অনেক ব্যবসায়ীর টাকা পাওনা রয়েছে । আমার মত অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের,এর ফলে হাতে নগদ টাকা না থাকায় আসন্ন ঈদে আমরাও ভালো নেই । যে কারণে শ্রমিকদের সহযোগীতার ইচ্ছা থাকলেও কিছু করার উপায় নেই আমাদের ।