ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

ময়মনসিংহের মত সারাদেশেই শহরগুলিতে বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা একটি মারাত্মক সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে উপায় বের করেছেন প্রকৌশলী মেহেদি আহসান। তিনি ময়মনসিংহ শহরের ময়লা আবর্জনা থেকে সার তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক আয় এবং পরিচ্ছন্ন তথা সবুজ শহর গড়ার স্বপ্ন বুনেছেন।

২০১২ সালের মে মাসে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে দু’দিন ব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক, জার্মানি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কাইমেট চেঞ্জ ইফেক্টস অ্যান্ড এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ- ‘আইসিসিইবি’ নামের এই সম্মেলন আয়োজন করে।

mymensinghgarbage1
সেই সন্মেলনে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ময়মনসিংহ গড়তে সমস্যা ও সম্ভাবনার একটি চিত্র তুলে ধরেন জার্মান সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড এর সাবেক কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ মেহেদি আহসান। তিনি জানান, রাজধানী ঢাকা থেকে ১২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ময়মনসিংহ পৌরসভায় আবর্জন ব্যবস্থাপনার অভাব এবং জলাবদ্ধতাকেই স্থানীয় মানুষ তাদের প্রধান সমস্যা বলে চিহ্নিত করেন।

ফলে জার্মান সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড এর কারিগরি সহায়তায় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি ও জাতিসংঘের কিছু সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে সেখানে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তাঁর ভাষায়, ‘‘প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তিনটি ওয়ার্ডে এর কাজ শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, আবর্জনার উৎপত্তি স্থল থেকেই এগুলোকে পৃথক করে সেগুলো থেকে জৈবসার উৎপন্ন করার পন্থা বের করা।

আর এই জৈবসার দিয়ে আমাদের কৃষিজীবী মানুষ যেন লাভবান হতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। এছাড়া পরবর্তীতে জিআইজেড ও অন্যান্য দাতা সংস্থার সহযোগিতা ছাড়াই যেন প্রকল্পটি অব্যাহত থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়। এই লক্ষ্যে পৌরসভা এবং স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে নিয়ে একটি সহযোগী সংঘ গঠন করা হয়।

mymensinghgarbage2

এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ি বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে ইউনিসেফের সহযোগিতায় তৈরি একটি সার উৎপাদন কারখানায় জমা করা হয়। সেখানে উৎপন্ন জৈবসার কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়। এভাবে এই সার কারখানাটি আবর্জনা থেকে তৈরি সার বিক্রি করে এখন নিজেদের অর্থায়নেই চলছে।

এই প্রকল্পটি ছিল দ্বিতীয় নগর পরিচালন অবকাঠামো উন্নতিকরণ কর্মসূচির আওতায়। বাংলাদেশের ৩৫টি পৌরসভায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ময়মনসিংহ পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে এই তিনটি ওয়ার্ডের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্নরূপ লাভ করেছে বলে উল্লেখ করেন মেহেদি আহসান।

ময়মনসিংহ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মেয়র ইকরামুল হক টিটু আবর্জনামুক্ত পরিবেশ বান্ধব মডেল পৌরসভা নির্মাণার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২৫ বাস্তবায়নে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এই প্রকল্পের আগে থেকেই ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম ব্রীজের পাশে শম্ভুগঞ্জের ময়লাকান্দার পৌর ডাম্পিং-এর রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ পৌরসভার নিজস্ব ও ভাড়াকৃত ড্রেজার,এক্সকেট্র, লোডার কাম এক্সকেটর-তিনটি যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত সড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সেখানে তদারকি করেন পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌঃ (যান্ত্রিক) মোঃ শফি কামাল, সেনেটারী ইন্সপেক্টর দীপক মজুমদার, কনজারভেটিং ইন্সপেক্টর মহব্বত আলীসহ সংশ্লিষ্ট পৌরসভার স্টাফগণ। ময়লা-আর্বজনা সরানোর পাশাপাশি সেখানে ছিটানো হয় ব্লিচিং পাউডার।

এদিকে কিন বাংলাদেশে কিয়োটো প্রটোকল কর্মসূচীর আওতায় গ্রিন হাউজ ইফেক্ট নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শহর পরিচ্ছন্নে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ চলছে।

ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু জানান, শহর আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করতে সকল কার্যক্রম সম্পাদকে আমরা প্রস্তুত। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা কোরবানীর ঈদে বর্জ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। প্রকৌশলী মেহেদি আহসানের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মাঠ পর্যায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সব মিলিয়ে এ ধরণের প্রকল্প একটি শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব শহরে পরিণত করতে সক্ষম।