ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডি ভবনে জন্মগ্রহণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পুত্র শহীদ শেখ রাসেল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেটের কবল থেকে রক্ষা পাননি শিশু রাসেল। গোটা পরিবারের সকল সদস্যদের হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি নরপিচাশরা। মাত্র ১১ বছরের এই শিশুকেও হত্যা করে।

বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এরা নৃশংস ভাবে হত্যাকরে প্রমাণ করেছে এরা একদল অসভ্য বর্বর। ঘৃণ্য এই হত্যার মাধ্যমে এরা চেয়েছিলো সমাজের অভিভাবক সেজে ক্ষমতা আখড়ে ধরে রাখার। এরা ক্ষমতালোভী মানবতার শত্রু। গণতান্ত্রিক ভাবে না পেরে, ভয় দেখিয়ে, গুলি করে, বোমা ছুড়ে শিশু, আবাল-বৃদ্ধা, বনিতাদের হত্যা করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছে ভবিষৎতেও চেষ্টা করবে।

এরা অধর্মকে লালন ও পালন করেছে করবে। বাংলাদেশের আদর্শ,মূল নীতিকে হত্যার মাধ্যমে ধর্মব্যবসা চিরকাল করে যাবে। এরা রাজনীতি ও ক্ষমতার ‘ককটেল’ বানিয়ে অর্থ, প্রতিপত্তি অর্জন করতে চায়। নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করে। দু::সময়ের সুযোগ নিয়ে। এখন বাংলাদেশে সুসময় এসেছে, এখন সাদাকে কাদার থেকে আলাদা করা যায়। এখন ন্যায়-অন্যায়, শোষক-শোষিত, দীন ও হীনের মধ্যে লক্ষ্মণরেখাটি সুস্পষ্ট ও প্রায় দুরতিক্রম্য। নীতি ও দুর্নীতি বিষয়েও তাই। এখন সমাজের জাগ্রত, বিবেকবান, চিন্তাশীল অংশ ‘অন্যায়ের’ প্রতিবাদে পথে নেমেছেন, এখন পদক্ষেপ দ্বিধাহীন, নৈতিক, প্রেরণা-সঞ্চারি।

সমাজের এই বিবেকী আলোকিত অংশ, যা সারাবিশ্বের আলোকিত ‘নাগরিক সমাজ’ । আজকের এই নাগরিক সমাজের শ্রেণি-বর্ণ- সম্প্রদায়গত পরিচয়, অবস্থান, শক্তি ও দুর্বলতার বিষয়গুলি আর প্রশ্নের মুখোমুখি ফেলে না। বর্তমান সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে সমাজকে জাগিয়ে তুলেছে । এই শিশু রাসেলের খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতে বাধ্য করেছে । সমাজ ও সমাজে বসবাসকারীরাও এটাই চায় ।

তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে , শিশু রাসেলের হত্যাকারী অশুভ শক্তিগুলি কালে কালে প্রবল হয়ে উঠবে । তাদের বিনাশ করতে না পারলে আমাদের নাগরিক জীবন আবারও বিপন্ন হবে। এদেরকে সমূলে ধ্বংস করতে না পারলে আচরণে আইনের প্রতি চূড়ান্ত অবজ্ঞা, হিংসা ও বিশৃঙ্খলার সদর্প আস্ফালন রয়েই যাবে ।

শিশু শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা তাকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় তাদের অপচেষ্টা শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিবোধ সম্পন্ন মানুষদের কাছে ভালবাসার নাম। অবহেলিত, পশ্চাত্পদ, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে গ্রাম-গঞ্জ-শহর তথা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জনপদ-লোকালয়ে শেখ রাসেল আজ এক মানবিক সত্তায় পরিণত হয়েছেন। দেশবাসীর আজ একটাই দাবি বঙ্গবন্ধু ও শিশু রাসেল হত্যাকারীদের যেসব ঘাতক এখনো বিদেশের মাটিতে পালিয়ে আছে তাদের দেশে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।

আসুন প্রতিজ্ঞা করি এই হত্যাকারীদের দোষড়দের বিরুদ্ধে নিন্দা ,প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলি । ক্ষমতালোভী রাজাকারের দোষড় এই এদের বিন্দুমাত্র স্বার্থ গুরুত্ব দিলে আজকের উন্নত বাংলাদেশের স্বার্থ, বিঘ্নিত হবে।

মুষ্টিমেয় এই হায়েনাদের সুযোগ দিলে, সমাজের কাছে আমরা দায়বদ্ধ তার আস্থা আমরা হারাব।