ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

ময়মনসিংহে শহরের সিকে ঘোষ রোডের ফুটপাত । সুস্থ চেহারা। একগাল হাসি ভরা মুখ। সামনে সিলভারের থালা । থালায় এক, দুই , পাঁচ টাকার কয়েন , দশ টাকার নোট । বুধবার দুপুরে প্রখঢ় রোদ মাথায় । বসে আছে শিশুটি । পাশেই তার মা- বাবা । বলছে অসুস্থ শিশুটির জন্য কিছু দেন।
mymensingh,begging children
তবে আদপেই শিশুটি অসুস্থ কিনা ? ওরা তার আসল মা- বাবা কিনা ? তা নিয়ে আছে অনেকেরই যথেষ্ট সন্দেহ । তাদের অভিযোগ শিশুটিকে ভাড়ায় এনে এব্যাবসা করানো হচ্ছে । অভিযোগ আছে এমন অনেক শিশু আছে যাদের মা-বাবা সেজে এ ভাবেই টাকা তুলছে একটি চক্র।

শিশুটির পানে চেয়ে পথচারিদের ভালোবাসা আর তার তথাকথিত বাবা-মার আর্তির কাছে আত্মসমর্পণ করছেনা এমন মানুষ খুবই কম দেখা গেলো সিকে ঘোষ রোডের ঐ সড়কের ফুটপাতে। অথচ এ বয়সে শিশুটির মা- বাবার স্নেহ আদরে ধন্য হয়ে বাড়িতে খেলা – ধূলায় মেতে থাকার কথা ।

পাঁচ কিংবা দশ টাকার হিসাবে সাহায্য দেয়ার মত লোক এই শহরের স্থায়ী এবং বাহির থেকে আসা মানুষ নেহাত কম নয়। সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদাররা বলছেন, এদের আয় নাকি তাদের চেয়েও ভালো । দিনান্তে আয় এক দুই হাজার টাকার কম নয় ।

mymensingh,begging children-2
বর্তমান সরকার সারাদেশের অংশ হিসাবে ময়মনসিংহ জেলাতেও ভিক্ষুক মুক্ত করণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে । ভিক্ষুকমুক্ত ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনেও আন্তরিক সরকার । এরই মাঝে প্রকাশ্যে এভাবে শিশুকে দিয়ে কি করে ভিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । এমন প্রশ্নও উঠেছে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তথাকথিত এই শিশুটির বাবা- মা জানান, আমরা বন্ধ করলেই কি এ ব্যবসা থেমে যাবে ? তবে , ভিক্ষা দিচ্ছেন তারা বলছেন, আমাদের সহযোগীতায় যদি শিশুটি সুস্থ হয় তবে তো ভালোই ।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এদাবি জানানো হয়েছে ।