ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

mymensingh,psc
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৬৫ বছর বয়সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (প্রাইমারি এডুকেশন কমপ্লিশন এক্সামিনেশন-পিইসিই) দিচ্ছে এক নারী। পরীক্ষা দিতে এসে লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে উঠেনি, গর্বে যেন বুক ভরে উঠছে। উপজেলার সাউথকান্দা সরকারি প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে নাতির সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ঐ নারী । নাম তার সুন্দরী বেগম।

বৃদ্ধ বয়সে নাতির সাথে পরীক্ষা দিতে পেয়ে নিজেকে সার্থক মনে করছেন এই বৃদ্ধ।

সুন্দরী বেগম বলেন, ‘‘ছোট থেকেই সংসারের বোঝা মাথার ওপরে পড়েছিল। তাই লেখাপড়াা করার সুযোগ হয়নি। বাপ-দাদারাও উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু কষ্ট হলেও আমি আমার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। নাতি-নাতনিরাও পড়ছে। এবার আমার শিক্ষিত হওয়ার পালা।”

জানা গেছে, চলতি শিক্ষা বর্ষে পিইসি সমাপনীতে এ বছর ত্রিশালে হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউথকান্দা সরকারি প্রাইমারি স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়াদের মধ্যে আছেন সুন্দরী বেগমও।

উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউথকান্দা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের গৃহকর্তী তিনি। এ নারী বলেন, একটি একাউন্ট খুলতে ছয় বছর আগে গিয়েছিলাম কাশিগঞ্জে অবস্থিত কৃষি ব্যাংকে। লেখাপড়া না জানায় একাউন্টের জন্য কোনরকমে স্বাক্ষর দিয়েছিলাম। ব্যাংক অফিসাররা তিনটি স্বাক্ষর চান। দিলাম। কিন্তু সেখানে একটি গড়মিল হয়ে যায়। ম্যানেজার ফাইল ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন ঐ স্বাক্ষর দেখে।

কাঁদিনি। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। শিক্ষিত হয়েই স্বাক্ষর দেবো। ঘটনার পর দিন আমার মেয়ের ছেলে নাতিকে (মো: জিহাদ) নিয়ে সাউথকান্দা সরকারি প্রাইমারি স্কুলে যাই। নাতির সাথে সহপাঠী হিসাবে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। সংসারের কাজ সামলিয়ে এতদিন পড়েই যাচ্ছি।

ছয় বছর পড়ার পর এ বছর নাতী জায়েদের সাথে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। বাংলা পরীক্ষা চলাকালে প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে দেখা গেছে, মন দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। ব্যাংকের ম্যানেজারের দুর্ব্যবহারের জবাবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

ঐ পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, তাকে শ্রদ্ধা জানাই। তিনি সত্যিই একজন অনুকরনীয় অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।