ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

বাসে করে সন্ধ্যায় পল্টন থেকে ফার্মগেট আসছিলাম । পাশের সিটে সহযাত্রী এক ভদ্র মহিলা । খুব সম্ভবত বয়স পঁচিশ থেকে ত্রিশের কোঠায় ।

দেখে মনে হলো অতি নিম্নবিত্ত । মনে হয় সে কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলো ।

তার সাথে মোবাইল ছিলো । সে তার ছোট বোন কে ফোন দিয়ে বলল, ” বইন, আমি বাড়ি আইতেছি । আইজকে ছোট মাছ কিনছি । বাড়ি আইসা আলু দিয়ে রান্না করে সবাই খাবো । তুই এক পোয়া চাল বসায় দে । হ্যাঁ, এক পোয়া বেশি দিস না ।”

কথার ধরন শুনে মনে হলো অনেক দিন পর তার বাসায় মাছ রান্না হবে । তবে জানিনা, তারা কজন মিলে এক পোয়া চাল খাওয়ার প্লান করছে । হ্যাঁ, শুধুই এক পোয়া ।

আরেক দিকে শাসক শ্রেণি (তাদের মধ্যে একেকজন একেকবার ক্ষমতায় আসে) দুর্নীতিতে মশগুল। কোটি টাকার দুর্নীতির কথা বললে তাদের মধ্যে গরীব গরীব ইমেজ চলে আসে । হুম, হাজার কোটি টাকা (এটাও নাকি পরিমানে তেমন কিছু না, এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির অভিমত) ।

কিন্তু সরকার চলছে কোন টাকা দিয়ে । এই গরীব মানুষদের করের যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ সেই টাকা দিয়েই তো সরকার চলছে । সে যে খাবার ১০ টাকা দিয়ে কিনেছে সেখান থেকে ২ টাকা কর হিসেবে সরকার রেখে দিয়েছে ।

হে শাসক, আমরা তোমাদের কিছুই বলবনা । তোমরা কত টাকা খেতে পারো, কত দুর্নীতি করতে পারো, তোমাদের সীমানা কতদুর সেটা দেখার খুব কৌতুহল আমার ।

হে দুর্নীতিবাজ , তুমি ২৮ হাজার কোটি টাকা মেরে যে তৃপ্তি পেয়েছ, আমার দেশের সাধারন মানুষ ২৮ টাকা দিয়ে কেনা ১ কেজি চাল ১০ জনে ভাগ করে খেয়ে তার চেয়ে বেশি তৃপ্তি পায়।

তোমাদের বহুতল অট্টালিকার সুমিষ্ট এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধের চেয়ে, এই পরিশ্রমী গরীব লোকদের ঘামের দুর্গন্ধ আমার কাছে সুখকর লাগে ।