ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

“ইন্ডিয়ান সেই মেডিক্যাল ছাত্রী মারা গেছে ।”
এ খবরে আমি যতটা না ব্যথিত, তার চেয়ে বেশী লজ্জিত । কোন সমাজের, কোন সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করছি আমি ?
সময়টা যখন শুধুই এগিয়ে যাওয়ার তখন এসব ঘৃণিত জিনিস কেন আমাদের পিছন পানে টানছে ।
একটা ধর্ষণ, একটা হত্যা সকল অর্জন কে মিথ্যা করে দেয় ।

এসব ঘটনার পিছনে পরিবার, সমাজ কি ভুমিকা পালন করছে ?
আমাদের আধুনিক তথাকথিত স্মার্টনেস, শিলা কি জাওয়ানি, ডার্টি পিকচার, হেট স্টোরি কিংবা আর্ট ফিল্ম সেগুলো যত জীবন ছোয়া কাহিনীই প্রদর্শন করুক না কেন, এগুলোর আড়ালে তারা যৌনতার মার্কেটিং করছে কি না? যেগুলো অন্যকে এসব কাজ করতে প্রলুব্ধ করছে ।

যৌনতাকে কেন আধুনিক প্রজন্ম এতো বেশী প্রশ্রয় দিচ্ছে । না কি সমাজ তাকে এসব করতে প্রলুব্ধ করছে ।
আমার মনে হয় এসব ভাবার সময় এসেছে ।

পরিবারগুলো থেকে যৌনতার বিষয়ে সন্তানদের সাবধান করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু যৌনতা কে স্বাভাবিক-সাধারন ভাবে দেখার শিক্ষা কোথাও দেওয়া হচ্ছেনা । বরং সাবধান করে দেওয়াতে যেটা পরোক্ষ ভাবে যৌনতার প্রতি নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে তুলছে ।

আজকের বিক্ষোভ, উন্মাদনা কালকে হয়তো থেমে যাবে, কিন্তু তারপর……সব আগের মতো!!

একটা মানুষ যেমন তার মায়ের পেট থেকে খুনী হয়ে জন্ম নেয়না, সমাজ-পরিবেশ ধীরে ধীরে তাকে খুনী বানায় ।
তেমনি একটা মানুষ তার মায়ের পেট থেকে ধর্ষক হয়ে জন্ম নেয়না, সমাজ-পরিবেশ ধীরে ধীরে তাকে ধর্ষক বানায় ।

ভারত, বাংলাদেশসহ সকল দেশের সমাজ বিজ্ঞানী, সমাজবিদ সহ সকলকে এ বিষয় গুলো নিয়ে আরো বেশী গবেষনা করতে হবে ।
দরকার হলে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার আরো নতু্ন নতুন গবেষনা প্রকল্প চালু করতে হবে, কিভাবে এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় ।
দরকার হলে সকল প্রযুক্তি, চিকিৎসা, আবিস্কার বিষয়ক গবেষনা আপাতত বন্ধ করে দিয়ে শুধু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার উপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক । কথাটা হাস্যকর লাগতে পারে কিন্তু বাস্তবতা হলো আমার সমাজ, আমার দেশ, আমার বিশ্ব যদি ঠিক না থাকে তাহলে কোন নতুন সৃষ্টি সামাজের উন্নয়নে প্রকৃত অর্থে কখনই কাজে লাগবেনা ।
বরং সহস্রাব্দ শেষে মাথা নিচু করে বসে থাকা অপমানিত মানব জাতি হওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছু করার থাকবেনা।