ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

নিশ্চয় লেখার শিরোনামটা দেখে একটু হলেও আশ্চর্য হচ্ছেন । আশ্চর্য হওয়ারই কথা । আমরা যারা বাঙ্গালী,বাংলাদেশী তাদের চোখে আমাদের প্বার্শবর্তী দেশটির সম্পর্কে যেন ইতিবাচক ধারণার শেষ নেই,থাকাটাই স্বাভাবিক । কেননা মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দেশটি আমাদের অনেক সাহায্য করেছে । যদিও অনেকে দ্বিমত পোষন করে যে তাতে ভারতের অনেক স্বার্থ রয়েছে। তবে একথাও সত্যি ভারতের সাহায্য ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বিজয় লাভ অনেক কষ্টকর হয়ে পড়তো ।

অতীতের কথা কেন বললাম,কারন অতীত ছাড়া বর্তমান অচল ।কিন্তু বর্তমানের দিকে তাকালে আমরা কি দেখি…একসময়কার বন্ধু এই রাস্ট্রটি ‘তিস্তা পানি বন্টন’ ইস্যুতে আমাদের সাথে কি রকম চোর-পুলিশ খেলা শুরু করেছে । আমি নিজেই তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম,আমি জানি সেখানখার মানুষের ভয়াবহ করুণ অবস্থার কথা ।অথবা টিপাইমুখবাঁধ কিংবা আজকের মৃতপ্রায় পদ্মা,যমুনার কথা আপনার না জানার কথা নয় ।

আমার আজকের লেখার বিষয়বস্তু ছিলো ভারতীয় মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা। শিরোনামটা এরকম কেমন আছেন পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলমানেরা ? গতকাল রাতে ভারতীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ইটিভি বাংলায় ভারতীয় মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা বিষয়ক একটা প্রতিবেদন দেখলাম । প্রতিবেদনটি করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের উপর । যেখানকার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী । শোনা যায়,তিস্তা চুক্তি নিয়ে চুড়ান্ত ঝামেলাটি তিনিই বাঁধিয়েছিলেন । সেখানকার একজন মুসলমান ইটিভি বাংলাকে আক্ষেপ করে বলেন “ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করায় কি লাভ,লেখাপড়া শেষে ছেলেমেয়েরা তো কোন চাকরি পাবেনা ।” ইটিভি বাংলার মাধ্যমেই জানতে পারলাম পশ্চিমবঙ্গে সরকারী চাকরিতে শতকরা ২% মুসলমানদের নিয়োগ দেয়া হয় কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০% মুসলমান । তাই সেখানকার একজন মুসলমানের কন্ঠে অনুযোগ ‘মমতা দিদি কে অনেক বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি আমাদের দিকে তাকালেন না ।’ পত্রিকায় পড়েছিলাম,পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পূর্ব এক জনসভা চলাকালে আজানের সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মাথায় কাপড় দিয়েছিলেন । তাহলে সেখানে আজ মুসলমানদের প্রতি এত অবিচার কেন ? নাকি ওটা ছিল শুধু নির্বাচন পূর্ব লোক দেখানো ।

স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কল্যানে একটি বিষয় হয়তো আজ আমাদের সামনে এসেছে, কিন্তু এরকম কত ঘটনা যে নিত্য ঘটে যাচ্ছে আমরা তার ক’টাই বা জানি/জানতে পারি । কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের মতো ছোট রাস্ট্রের বেলায় সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠে । সংবিধানের “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লেখাটি তুলে দিয়ে আমাদের প্রমান করতে হয় যে আমাদের জাতীয়তাবোধ আসলে সাম্প্রদায়িক কি না । কিন্তু আমরা বাংলাদেশের অধিবাসীরা/সাধারন নাগরিকরা তো ভাল করেই জানি যে আমরা সাম্প্রদায়িক কি না । আমি পশ্চিমবঙ্গের যে ঘটনার বিবরন দিলাম এরকম কোন ঘটনা কি আমাদের দেশে অতীতে কখনো ঘটেছে । হয়তো এভাবেই চলতে থাকবে আমাদের কিছুই করার নেই…আমি ব্লগটা লিখলাম আর আপনি পড়লেন এখনেই সবকিছুর শেষ ।