ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, ইসলামী শাসন তন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য জোটের কর্মীদের যে তান্ডব আমরা গত শুক্রবার দেখেছিলাম সেটাকে আপাতত ক্যাশ ইন করেছে জামাত এবং বিএনপি জোট। গতকাল রাতে টিভি তে আলেম ওলামাদের দুজন নেতার বক্তব্য শুনছিলাম। ওনারা স্পষ্টতই বললেন তারা ব্লগ পড়েন না কোনদিন পড়েন নি । তারা ইনকিলাব পড়ে জেনেছেন। পরে আমার দেশও এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। ওনারা আরও বলেছেন, হরতাল শান্তিপুর্নই হবে , কোন সহিংসতায় তারা যাবেন না । সকালে দেখলাম বরিশালে চর মোনাইর পীরের মজলিশ উপলক্ষে ওখানে হরতালকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে ধর্ম ভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে এই ধর্মপ্রাণ মানুষ গুলোকে সহিংস করার পবিত্র !!! দায়িত্বটি সম্পন্ন করেছেন মাহমুদুর রহমান এন্ড গং । আপাত দৃষ্টিতে উনি সফল । কিন্তু একই টেকনিক সামনের দিন গুলোতে কি কাজ করবে?

যে তাত্ত্বিক গোষ্ঠী মাহমুদুর রহমান কে সমর্থন দিচ্ছেন তাদের মধ্যে ফরহাদ মঝহার অন্যতম , উনি মাহমুদুর রহমান কে এ যুগের রবিন হুড আখ্যা দিয়েছিলেন। সেই রবিন হুড শেরউড বনের স্বাধীনতা সংগ্রামে রত যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে । আর এই রবিন হুড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ান । জোট সরকারের সময় জ্বালানি উপদেষ্টা এবং বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ওনার কি অর্জন সেটা সবারই জানা । লিংক

কাল ফরহাদ মঝহার ইনিয়ে বিনিয়ে তরুনদের এই আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদ বানিয়ে ছেড়েছেন। তুমি কে আমি কে…বাঙালি ……বাঙালি এই স্লোগানটির মধ্যে উনি ফ্যাসিজমের গন্ধ পেয়েছেন। আদিবাসীদের উপর এ শ্লোগান নিবর্তন মুলক …..ইত্যাদি …… ইত্যাদি । আমি আদিবাসী তরুন তরুণীদের শাহবাগে দেখেছি । তারা এটা নিয়ে ভাবিত না । জামাত নামক অপশক্তিকে রুখতে তারাও একাট্টা ।শুরুতেই আদিবাসি সলিডারিটির পক্ষ থেকে ছোট ছোট সংগঠন মিলে একসাথে তাদের একাত্মতা জানিয়েছে, সঞ্জিব দ্রং ছিলেন এর পেছনে ।

একটা জাতীয়তা তৈরির পেছনে থাকে শত শত বছরের ইতিহাস। ভৌগলিক সীমারেখা তাতে একটা মাত্রা যোগ করে মাত্র ।যারা বাংলাদেশি বলেন, তার মানে হচ্ছে আমরা একাত্তুরের আগে পাকিস্তানি ছিলাম, রুটি আর পেঁয়াজ খেতাম। আদিবাসীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ইনক্লুসিভ হলেও তারা ঐ সময়ে অত্যাচারিত হয়েছে সবচেয়ে বেশী। সমতল থেকে বা নদী ভাংগনের এলাকা থেকে মানুষদের নিয়ে ওখানে বসবাস করান হত।

যে নির্মহ তারুণ্য বিশাল একটা অহিংস আন্দোলনের জন্ম দিল , যে জমায়েত থেকে একটা ঢিল পর্যন্ত ছোড়া হয় নি , তাদের সংগ্রামকে ফ্যাসিজমের সাথে তুলনা করা দুরভিসন্ধিমূলক । এমনকি সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ বললেন হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরো অনিশ্চিত করে তুলছে। সিনিয়র সাংবাদিক হয়েও ইনি কিন্তু বুঝলেন না এত বড় জনসমর্থন যাদের পেছনে আছে তাদের শক্তি তো জনগন তারা সন্ত্রাস করবে কেন? নিরব প্রতিবাদ, প্রতিকী প্রতিবাদ গুলো ইস্পাতসম । বেলুনে চিঠি বেধে যখন আকাশে উড়ানো হয়েছিল তখন মিলি রহমান তার স্বামীকে ( বীরশ্রেষ্ঠ মতিয়ুর ) লিখেছিলেন মতি তুমি চিন্তা করো না , আমরা রাস্তায় আছি , বিচার করেই আমরা বাড়ি ফিরব। জামাতের সন্ত্রাস বা দাড়ি গোঁফ না উঠা ছেলে গুলোর জুম্মার নামাজের পরের ভাংচুরের শক্তি কি এর চাইতে বেশি। মানুষের কানে এদের শব্দ কি পৌছায়? এতবড় বর্ষীয়ান তাত্ত্বিক ব্যক্তিও (ফ.ম)বুঝলেন না তৌহিদী জনতার জোশের এই চিত্র বাংলাদেশের আসল চেহারা নয়।

ইসলামি দলগুলোর ডাকা আজকের হরতালের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, হয়ত রাষ্ট্র থেকে তাদের বোঝান হয়েছে ,বা তারা বুঝতে পেরেছে জামাত এবং মাহমুদুর রহমান গং -দের ফাঁদে পা দেয়া হয়েছিল।পুলিশ শুক্রবার খুব একটা সক্রিয় ছিল এটা বলা যাবে না । তাই তারা আজ ভয়ে রাস্তায় নামে নি এ যুক্তি টেকে না। আজকের এই স্পর্ধিত তারুণ্য মাহমুদুর রহমানের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট ।

ফরহাদ মঝহার, নিজেকে কবি বলে পরিচয় দিতেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করেন। ঊনার নয়া কৃষি আন্দোলনের ধারনা অনেক বেশি হলিস্টিক এবং পরিবেশ বান্ধব। নব্বুয়ের দশকের মাঝামাঝি তে ও এর পরে প্রবর্তনায় প্রতি শুক্রবার ঠিক জুম্মার নামাজের সময়ে উনার একটি পাঠ চক্র চলত । এতে অংশগ্রহণ করে আমার মত অনেকেই সমৃদ্ধ হয়েছেন। সেই বেক্তিটির সাথে আজকের মানুষটির তুলনা করলে বিরাট ধাক্কা খেতে হয় ।