ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

images

যতটুকু জানি ব্লগিং কোন সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না । সাংবাদিকের যেমন একটা দায়িত্ব আছে একটা সংবাদ ছাপানোর পর সেটার প্রতিক্রিয়া কি হবে তা নিয়ে ভাবার । সংবাদটি যদি ক্ষোভ বা জনরোষকে উস্কে দেয় এবং এতে যদি জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে ঐ সংবাদটি পত্রিকাটি ছাপাবে না, এটাই দায়িত্ববোধ । যদি সংবাদটি যথেষ্ট তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে লিখা থাকে তার পরেও । আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান যা করেছিলেন ব্লগার রাজিবের লিখা নিয়ে বা সাঈদির মামলা চলাকালিন অবস্থায় যে মিথ্যাচার , সেটাকে কোন মাত্রায়ই সাংবাদিকতা বলা যায় না ।

একবার এক সিনিয়র সাংবাদিক কাম এডিটরকে (যিনি বিশ্ববিদ্যালয়য়ে সাংবাদিকতায় কৃতিত্বের সাথে পাঠ সমাপন করেছিলেন) টিভিতে বলতে শুনেছিলাম একজন সাংবাদিক যখন কোন ব্যাক্তির সাক্ষাৎকার নেন এবং এতে যদি এমন কোন কথা এসে যায় যেটা প্রকাশ করলে ব্যাক্তিটির ইমেজ ক্ষুন্ন হতে পারে যেটা ব্যাক্তি টি হয়ত নিজেই তা উচ্চারন করেছিলেন , সেটি ছাপানোর আগে সাংবাদিকটির উচিত হবে ঐ ব্যক্তিটির অনুমতি নেয়া । যদি সেই অনুমতি মেলে তবেই সে তা ছাপাতে পারে। এটাই সাংবাদিকের দায়িত্ববোধ ।

একটা পত্রিকা যেখানে সরকারি বিজ্ঞাপন পায় , যেখানে বেশ কিছু লোকের জীবিকা জড়িত, যেটা স্ফুলিঙ্গের মত বহু মানুষের হাতে চলে যায় , সেখানে দায়িত্বশীলতার পরাকাষ্ঠা দেখানোই হতে পারে সাংবাদিকতা ।

কিন্তু ব্লগে লিখা কখনই একই মানদণ্ডে বিচার্য হতে পারে না ।যে কেউ ই যে কারো নামে যেখানে স্ট্যাটাস দিতে পারে, তাই ব্লগ বা ইউটিউব নিয়ে চেঁচামেচির কোন মানে হয় না । মত প্রকাশের মাধ্যম যখন চরমভাবে সীমিত সেখানে ব্লগে হাতখুলে লিখা হতেই পারে । এর প্রতিউত্তরে অন্য যে কেউই কলম ধরে তার প্রতিবাদ জানাতে পারে । আলোচনা দ্বন্দ্ব সংঘাতের দিকে না যেয়ে মনোজ্ঞ হতে পারে।ভাষার চমৎকারিত্বে হতে পারে সমৃদ্ধ । তাতে আমরা অনেকেই শেখারও অনেক কিছু পেয়েও যেতে পারি ।কিন্তু সেটা না হয়ে হচ্ছে খুন । যেটা আবার হচ্ছে একই মনোবৃত্তির ,একই কায়দায় পরিচালিত ।

এখন কথা হচ্ছে কেন এত সহিংসতা বা অসহিষ্ণুতা।

সত্তরের দশক,আশির দশক, নব্বুই এর দশক অব্দি আমরা কি দেখেছি লেখা লেখির কারনে খুন হতে? তখন আহমদ শরিফ , হুমায়ুন আজাদ , ফরহাদ মজহার (অবশ্য এ সময়ের ফ.ম সম্পুর্ন ভিন্ন একটি চরিত্র) , আহমেদ ছফা ,শামসুর রাহমান ,এমনকি তসলিমা নাসরিন (পরে লিখা শুরু করা এনাকে অবশ্য একই কাতারে ফেলা যায় না) এদের কাউকেই এরকম পরিনতির স্বীকার হতে হয়নি । হামলা শুরু হয়েছে নব্বইয়ের শেষ থেকে । গত দশকের শুরু হতে এটা বিকশিত হতে শুরু করে এখন এটা মোটামুটি ফুলে ফলে সুশোভিত। কেন?

’৭৫ পরবর্তি ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার, স্বৈরাচারের দশকে তার যৌবন প্রাপ্তি এবং গনতন্ত্রের দুই দশকে এর অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হয়েছে । রাষ্ট্র কখনও এর বিপরীতে যায়নি । সরকারগুলোর নুইয়ে পড়া নীতিবোধ একে থামাতে পারার কথা নয় । এর ফল আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি ।

দু’জন হিজড়া  পালাতে থাকা দু’জন খুনিদের আটকে দিয়ে আমার জিনগত স্বাভাবিকতাকে কটাক্ষ করে আমি সেটা বুঝতে পারি। লজ্জিত হই। এটা কি রাষ্ট্রযন্ত্র বূঝবে?