ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

নাহ! উনি করবেন না । কেন আমরা তার পানে চাতক পাখির মত তাকিয়ে। উনি মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এটাই কি স্বাভাবিক না? রাজীব মারা যাবার পর তার বাড়িতে যাওয়া,পরিবারের সাথে দেখা করা, সংসদে বলা ওনার উক্তি ’আমার মন পড়ে আছে শাহবাগে’, হেফাজতিদের মুগুর দিয়ে হেফাজত করা এ সবই উনি করতে পেরেছেন বিশাল একটা ম্যান্ডেটের কারনে । আর এখন সেটা নেই। তাই গ্যালিলিওদের প্রান দিতে হচ্ছে পুরোহিত আর যাজকদের হাতে । প্রানের এই সংহার আমরা দেখছি আর ক্ষমতাবানদের দুষছি । কিন্তু হায়! আমাদের এ তীব্র আর্তনাদে ওনার কিস্যু আসে যায় না!

এখন ডারউইন নিয়ে কথা বলা যাবে না, মানব সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে কথা বলা যাবে না, লন্ডন মিউজিয়াম দেখে ফসিল এভিডেন্সের উপর পোস্ট দিতে পারবেন না, আপেক্ষিক তত্ত্বের নিয়ম মেনে আলোর গতিবেগে ছায়াপথ ঘুরে এলে, সেখানে ৪ সেকেন্ড অতিবাহিত করলেও পৃথিবীতে তা ৪০ কেন, তারচেয়ে অনেক বেশি বছরের সমান সেটা বলা যাবে না । চিম্প মানে শিম্পানজির সাথে ব্যাপক ক্রোমজমাল মিল থাকার পরেও (চিম্পের ১ জোড়া বেশি তাও আবার তার ২এ এবং ২বি মানে ২য় ক্রমোজোমটি মিলে হিউম্যান ২য় ক্রমোজোমটি হয়েছে এবং এতে কোন জেনেটিক উপাদানই হারিয়ে যায়নি বা এ্যাড হয়নি শুধু রুপান্তর হয়েছে) শুধুমাত্র বিবর্তনের কারনে কিভাবে স্পিচ এবং হিয়ারিংটা বদলে যেয়ে আজকের এ মানুষ, এগুলো নিয়ে আলোচনার দোষ কোথায়? অনন্ত, তো তাই বলত, তার অনুবাদকৃত লিখায় এসবই তো ছিল। তাহলে কেন তাকে মরতে হল? একজন বায়োলজির ছাত্র হয়েও ন্যাচারাল সিলেকশন নিয়ে দিলখুশ আলোচনা করা যাবে না । ইন্টারমিডিয়েটের সময় যে শিক্ষক আমাকে লালসালু বা পদ্মা নদীর মাঝি পড়িয়েছিলেন ওভাবে কোন শিক্ষক আর আলোচনা করবেন না, এক কপট ভীতি তাদের তাড়িয়ে বেড়াবে।

এখন মহাসমারোহে ধর্ষন হচ্ছে, পুলিশ হামলে পড়ছে নারীর উপর, পুলিশের আবার দোষ কী? এদের তো প্রোগ্রাম করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সেদিন টক শোতে শুনলাম ঢাকার ৪৯টি থানার মধ্যে ৩৪টিরই ওসি হচ্ছেন একটি বিশেষ এলাকার আর ১২ জন হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের । আমি বিশ্বাস করি না এনারা অযোগ্য। তা হলে কিভাবে সৌদি দূতাবাসের এক কর্মচারি মারা যাবার এক সপ্তাহের মধ্যে খুনি ধরা পড়ে, আর মুক্তমনের লেখকদের খুনের পর পুলিশের তথ্য নিতে নিতে সময় কেটে যায় ।

যুক্তিবাদ এবং বিবর্তন নিয়ে আরো বেশি জানার জন্য আমরা রিচার্ড ডকিন্সের লেকচার না শুনে তারানা হালিম, বা স.ম.আরেফিন সিদ্দিকির লিখা পড়ব, কারণ ওনাদের লিখা ঢের বেশি সমৃদ্ধ, মুক্ত এবং প্রগতিবাদী। এর প্রমাণ তাদের কাছে খুনিরা চিঠি দিয়েছে আর তাই তারা অফিসিয়ালি প্রোটেক্টেড । কখনো শুনিনি কাউকে এভাবে চিঠি পাঠিয়ে খুন করা হয়েছে ।চিঠি দিয়ে চাঁদাবাজি হয়েছে এটা শুনেছি । খুনিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় না নিয়ে এসব চিঠি চালাচালি কি মনযোগ অন্যত্র নেয়ার জন্য?