ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

বিপিএল কি ক্রিকেটেরই স্বার্থে না কি রথ দেখা কলা বেচার মত বাণিজ্যিক ব্যাপারও আছে। দুটো একসাথে হলে কোন সমস্যাই ছিল না। কিন্তু পাশের দেশ ভারতের উদাহরন দেখলে এটা মোটেও কোন সস্তিদায়ক ব্যাপার না আমাদের কাছে,অন্তত যারা ক্রিকেট ভালোবাসেন বা বোঝেন তাদের কাছে। এই শটার ভার্শন ক্রিকেট থেকে আসলেই কি কোন স্টার তৈরি হয় যারা বড় ভার্শন এ টিকে যাবে ? টি-২০র চার বছরের ইতিহাস কিন্তু তা বলে না ।

আগে আপনাকে স্বীকার করতে হবে প্রকৃত ক্রিকেট বলতে আপনি কাকে বোঝান– সেটা কি পাঁচ দিনের, একদিনের , না কি বিকিনি ভার্শন মানে টি-২০, নাকি সবগুলোই । আপনি কি ক্রিকেট দেখেন খেলাটিকে ভালবেশে না নিছক বিনোদনের জন্য ?যদি বিনোদনের জন্য দেখেন টি ২০ আপনার জন্য পারফেক্ট রেসিপি । মাঠটিকে ছোট বানিয়ে ছক্কা পর ছক্কা আপনি দেখতে পাবেন তাতে । যদি খেলা মানে বোঝেন ব্যাট এর সাথে বলের বাড়ি আর মাঠ পার হওয়া তাহলে বিপিএল দেখে আপনার পয়সা অশুল হবে নিশ্চিত ।

এখন যদি বড় পরিসরে চিন্তা করি তাহলে একজন মামুলি ক্রিকেটারও যখন দেখবে একটা সিজন(দু মাস ) খেলেই কোটি খানেক টাকা পাওয়া যায় দেশের হয়ে অনেকগুলো টেস্ট বা ওয়ান ডে খেলেও এক বছরে ও তা পাওয়া যায় না তাহলে তার দেশের হয়ে খেলার প্রেরণাটা থাকে কোথায় ?ভারতেই দেখেন গত বছর ইউসুফ পাঠান (দেশের হয়ে কোন টেস্ট না খেলেই হাতে গোণা কিছু ওয়ান ডে খেলেই) শুধু আইপিএল থেকেই পেয়েছেন ১০ কোটি রুপী । আর রবিন উত্থাপ্পা দেশের হয়ে কোন জার্সি গায়ে না দিয়েই পেয়েছেন ৯ কোটি রুপী (সুত্রঃইন্ডিয়া টু ডে )। ব্যাপারটা আরও পরিস্কার হয় যখন শাহরুখ (কলকাতা ফ্রাঞ্ছাইসের মালিক প্রথম দু সিজন এ সেকেন্ড লাস্ট ও লাস্টও হবার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ) বলেছিলেন স্পন্সর মানি থেকেই যাবতীয় খরচ উঠে লাভ চলে আসে । এরপর তো রয়েছে জার্সি বিক্রি,গেট মানি বা টিম এর বিজ্ঞাপনি সত্ত্ব । সব মিলে লাভ উঠে যায় আকাশে । আর ক্রিকেট বোর্ড ও এসব অনুমতির ক্ষমতা দেখিয়ে পকেট ভর্তি করে ।

আপনি হয়ত বলবেন যেখানে খেলোয়াড় পয়সা পায়,বোর্ড পায়, পাবলিকের মন ভরে তাতে আপনার এত দুঃখ কেন ? আমার দুঃখ ভাই আমি ক্রিকেটের সৌন্দর্য দেখে ফেলেছিলাম কোন এককালে ,আমি দেখেছিলাম ইমরান খানের ভয়ংকর সুন্দর ইনসুইনগার,যাকে দেখে ব্রিটিশ গায়ক মিক জাগার ( রোলিং স্টোন খ্যাত ) গান লিখতে যেয়ে বলেছেন সমুদ্র থেকে উঠে আসা গ্রীক দেবতার কথা ।কাপিল দেবের সপ্নিল আউট সুইং। ওয়াকার- আকরাম জুটির স্পর্ধা ,যাঁদের দেখে সাদারাও মাথা নামিয়ে সম্মান জানিয়েছিল । এখন যদি আমাদের দেখতে হয় বোলারের ঢিল আর ব্যাটসম্যানের ডাংগুলি,আর ডট বল করেই বলারের হাসি,যাই কোথায়?

সে দিন আর বেশি দূরে নেই দেখব পাড়ার যে ছেলেটা সবে হাত ঘুরাতে শিখেছে পরের সিজনেই বিপিএল খেলছে।ওর সপ্ন হবে মাল কামানো, লাল সবুজ জার্সি গায়ে দিয়ে আবেগে উদ্দেলিত হওয়া নয়। ধারনাটি আরও বদ্ধমূল হয় যখন দেখি মালিঙ্গা কে আইপিএল এর জন্য জাতিও দল থেকে অবসর নিতে ,গেইলকে বোর্ড এর সিধান্ত অমান্য করে ভারতে পড়ে থাকতে দেখে ।

এটা এমনি খেলা যেটা রিসেশন প্রুফ, বিশ্ব মন্দা একে স্পর্শ করে না, এটা ক্রিকেটকে পা দিয়ে মাড়ায়, আর মানুষকে আফিম খাওয়ায়।