ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সরকারি দলের সমর্থকদের যদি জিজ্ঞেস করেন কেমন আছেন, এটাই হবে উনাদের উত্তর। উনারা হুট করে একটা তুলনামুলক চিন্তা করে বসেন। দুটি শাসনের মধ্যে ভেবে ওনারা বর্তমান সময়ের পজিটিভ জিনিষ গুলো চিন্তা করে বসেন। তখন বলেন ভালই তো আছি। যে চরম ঘৃণা তারা বিপক্ষ নিয়ে করেন তাতে করে এই চিন্তা করাটা উনাদের জন্য সুবিধের হয় । একই কথা প্রযোজ্য অন্য পক্ষের ক্ষেত্রেও‍ । চরম আত্মপক্ষ সমর্থনের কারনে উনাদের নিজেদের নেতিবাচক দিক গুলো চোখে পড়ে না । এটা অনেকটা ছেলের মায়ের মতো ( বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য) ছেলের গুন গুলো নিয়ে চরম তৃপ্ত মা বউয়ের দোষ গুলো খুজে বেড়ান আর বলেন আমার জামাই টা খুব ভাল সারাক্ষণ মেয়ের কথা শোনে আর ছেলেটা হচ্ছে মেরুদণ্ডহীন বউ ছাড়া কিছুই বোঝে না।

দু চোখে দু রকম দেখাটা অন্যায় । এটা কোনও বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না । সমর্থকদের এরকম ইনসেনসিবল আচরণের জন্য সাধারণ মানুষ কে অনেক মুল্য দিতে হয় । সবসময়ই চিন্তার একটা মানদণ্ড থাকা উচিত। এটা হলে অন্যায় বলবো, সেটা সেটা প্রিয় দলটির ক্ষেত্রেও ।

প্রফেসর রবার্ট সি সলোমন যিনি অস্তিত্ববাদী দর্শনের জন্য বর্তমানে প্রথম সারির একজন ফিলসফার, এরিস্টটল যেখানে মানুষকে রেশনাল ক্রিয়েচার বলে কাজ শেষ করেছিলেন, সলোমন বলেছেন আবেগ আমাদের জীবন কে নিয়ন্ত্রণ করে, আবেগ জীবন কে মিনিংফুল বা অর্থবহ করে। সলোমন হচ্ছেন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর রিসার্চ অন ইমোশন এর প্রধান। উনি বলেছেন ঘৃণাও একটা পজিটিভ ইমোশন হতে পারে কিন্তু হিংসা বা বিদ্বেষ কখনই কোন ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারে না। এ রেফারেনসটুকু দেয়ার মানে হচ্ছে, এটা আমি নিজে বলছি না।

আমাদের দুটি প্রধান দলের কাজই হল অপরের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ান আর জাতিকে এটা নিয়ে ব্যাস্ত রাখা। অনেক টা স্টার প্লাস বা স্টার জলসার সোপ বা ধারাবাহিক গুলোর মতো। কেউই কারো প্রশংসা করে না, চোখ উলটিয়ে শুধু ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে বেড়ায়। আপনি যখনই চ্যানেল অন করবেন দেখবেন চোখ বড় বড় করে উঁচু বা নিচু স্বরের মেলোড্রামা । ( একাজে শুভ্র রমণীদের দারুণ ব্যাবহার করা হয় পুরুষ তান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আর কি) ভাবখানা এই এটাই জীবন। আমরা যা খাওয়াচ্ছি তোদের তাই খেতে হবে।

আমরা আর কতকাল এই সোপ অপেরার দর্শক হয়ে থাকব, আর উনাদের ক্ষমতার অমুক বছর পূর্তির কেক কাটা দেখবো। আমাদের এ গণতন্ত্রে জনগন চরমভাবে অনুপস্থিত। পাকিস্তানের মতো আধাসামন্তবাদী ব্যবস্থায় ইমরান খান যদি আশা জাগাতে পারেন তাহলে এরচেয়ে ভাল (অন্তত সামরিক বা মৌলবাদের প্রত্যক্ষ থাবার বাইরে আছি বলে) অবস্থায় আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।

দরকার একটা প্লাটফরমের, আর এই বেশ ভাল আছি নামক কূপমণ্ডুক বা কুয়োর ব্যাঙদের মোকাবেলা করা।